সংবাদদাতা, কান্দি: বড়ঞা ব্লকের কুণ্ডল গ্রামে ৩০জনেরও বেশি বাসিন্দা ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের মেডিক্যাল টিম গ্রামে গিয়ে পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি বাসিন্দাদের সচেতন করছে। বুধবার থেকে ডায়ারিয়ার প্রকোপ কিছুটা কমেছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের অনুমান, অন্য গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে অপরিস্রুত জল পান করার জেরেই ডায়ারিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। কল্যাণপুর-২ পঞ্চায়েতের আদিবাসী অধ্যুষিত ওই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস ও দিনমজুরের কাজ করে। সম্প্রতি আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। এলাকার অনেকেই আশপাশের গ্রামে গিয়ে সেই কাজ করছেন। কিন্তু সেখানে পরিস্রুত জল পান না করায় তাঁরা ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বড়ঞা বিএমওএইচ সৌমিক দাস বলেন, আমাদের মেডিক্যাল টিম কয়েকদিন ধরে গ্রামে পরিষেবা দিচ্ছে। বাসিন্দাদের সচেতনও করা হচ্ছে। বুধবার থেকে প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। অন্য গ্রামে কাজে গিয়ে অপরিস্রুত জল পান করার জেরেই রোগ ছড়িয়েছে বলে আমাদের প্রাথমিক অনুমান। এলাকার বাসিন্দা বচ্চন হেমব্রম বলেন, অন্য গ্রামে ধান কাটতে গিয়েছিলেন, এমন কয়েকজনেরই প্রথমে ডায়ারিয়া হয়েছিল। পরে গ্রামের অনেকের মধ্যেই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। পুকুরের জল পান করার জেরেও অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। ঘন ঘন বমি, পায়খানা ও জ্বরের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। গ্রামের মহিলারাই বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েকজন শিশুও আক্রান্ত হয়েছে। বুধবার গ্রামের দু’জনকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে ভর্তি। ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার নতুন করে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার আরও একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। কল্যাণপুর-২ পঞ্চায়েত প্রধান সাহিদা বিবি মল্লিক বলেন, পঞ্চায়েত থেকে প্রতিটি পরিবারকে পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে। পুকুরের জল ব্যবহার না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। পরিবার পিছু একটি করে সাবানও দেওয়া হচ্ছে।



