নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রূপায়িত হচ্ছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। এনিয়ে কিছুটা হতাশ ছিলেন কেশপুরের মানুষ। কারণ, কেশপুরেও বন্যা পরিস্থিতির জেরে প্রতি বছর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এবার কেশপুরে বন্যা মোকাবিলায় রাজ্যের সেচদপ্তর একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়ায় খুশি বাসিন্দারা। প্রয়োজনে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গেও যুক্ত করা হতে পারে কেশপুরকে। একইসঙ্গে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে কেশপুরের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। বুধবার জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক ও সেচদপ্তরের আধিকারিকরা জেলা পরিষদে বিশেষ বৈঠক করেন। এরপর তাঁরা বিভিন্ন বন্যাপ্রবণ এলাকায় যান। কেশপুর ব্লকের চারটি নদী এলাকা তাঁরা পরিদর্শন করেন। পরে বিডিও অফিসেও বৈঠক হয় বলে জানা গিয়েছে। কেশপুরের বাসিন্দাদের কথায়, বন্যায় সবচেয়ে বেশি চাষের ক্ষতি হয়। গত বছরের বন্যা ও ঝড়ের জেরে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। কেশপুরের চারটি নদী, খালের সংস্কার করা হলে সমস্যার সমাধান হবে। জানা গিয়েছে, রবিবার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বিশেষ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে কেশপুরের সমস্যার কথা তুলে ধরেন জেলা পরিষদের দলনেতা। সেই সময়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। মন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ায় খুশি কেশপুরের মানুষ।
Advertisement
এদিন জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, কেশপুরে প্রতিবছর বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সেই সমস্যার কথা জানানোর পরেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কেশপুরের বন্যার সমস্যার সমাধান হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন এখানকার চাষিরা। মন্ত্রী মানস ভুঁইয়াকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গতবছর বন্যা পরিস্থিতির জেরে কেশপুর ব্লকের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে গিয়েছিল। বাড়ি ছাড়া হয়েছিল শতাধিক পরিবার। ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। জানা গিয়েছে, কেশপুর ব্লকের কলাগ্রাম, ভিমপুর, কানপুর সহ একাধিক এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। কংসাবতী নদীর তীরবর্তী এনায়েতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কাপাসটিকরি, বিশ্বনাথপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলের নীচে চলে গিয়েছিল। বাঁধের উপর আশ্রয় নিতে হয়েছিল সাধারণ মানুষকে। জানা গিয়েছে, কেশপুর ব্লকের ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বন্যা হলেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে কেশপুর ব্লকের ১১, ১২, ১৪, ১৫ ও ১০ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে কংসাবতী নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে গতবছর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল। কংসাবতী ছাড়াও কেশপুর ব্লকে কুবাই, তমাল ও পারাং নদী রয়েছে। এইসব নদী ভেসে গিয়েও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এক প্রশাসনের আধিকারিক বলেন, কেশপুর ব্লকের প্রতিটি নদী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জল তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কয়েকশো গ্রামের বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। এদিন কেশপুরের বাসিন্দা সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, কেশপুরের সবচেয়ে বড় সমস্যা বন্যা। বহু বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। ঘর ছাড়া হতে হয়েছিল প্রচুর মানুষকে। ব্যবসায় ক্ষতি হয়। বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। নদীগুলো সংস্কার হলে খুবই উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ। একটাই প্রার্থনা বন্যা যাতে আর না আসে।



