নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: কয়েক মাস আগের বন্যায় আরামবাগ মহকুমায় মাছ চাষে ২ কোটিরও বেশি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। চরম সমস্যায় পড়েছিলেন মৎস্য চাষিরা। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে তৎপর হুগলি জেলা প্রশাসন। দেশি প্রজাতির চাষ বাড়াতে চাষিদের বিনামূল্যে মাছের চারা দিচ্ছে মৎস্য দপ্তর। সোমবার আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে মাছের চারা দেওয়া হয়। সেখানে ছিলেন হুগলি জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তী, আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিশির সরকার, পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ পীযূষ শিট প্রমুখ।
Advertisement
মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার আরামবাগ মহকুমায় প্রায় ১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার মাছের চারা নষ্ট হয়। পুকুরের জল উপচে ভেসে যায় মাছ। তারসঙ্গে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সামগ্রীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তারফলে উৎপাদনে প্রভাব পড়ে। তবে এদিন ‘জল ধরো জল ভর’ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে চাষিদের মাছের চারা দেওয়া হয়। মহকুমার প্রত্যেকটি ব্লকের চাষিরাই মাছের চারা পাবেন। জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ বলেন, মৎস্য চাষিদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন। আরামবাগ মহকুমায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পাশে আমরাও আছি। মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘কর্মশ্রী’-র অধীনে যেসব পুকুর খনন করা হয়েছে, সেখানে এবার মাছ চাষে জোর দেওয়া হচ্ছে। ‘জল ধর জল ভর’' প্রকল্পের মাধ্যমে দেশি মাছের চাষ বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। মৎস্য দপ্তরের হুগলি জেলার আধিকারিক সুব্রত সরকার বলেন, বন্যায় আরামবাগ মহকুমার ছ’টি ব্লকেই কমবেশি মাছ চাষের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসেব আমরা রাজ্যে পাঠিয়েছি। আশা করছি দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা হবে। তারসঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলির মাধ্যমে চাষিদের স্বনির্ভর করতে মাছের চারা দেওয়া হচ্ছে। মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি চাষিদের দেশি প্রজাতির সিঙ্গি ও মাগুর মাছের চারা চাষিদের দেওয়া হয়েছিল। এদিন আরামবাগ, পুরশুড়া ব্লকের চাষিদের রুই, কাতলা মাছের চারাও দেয় মৎস্য দপ্তর। তাছাড়া ‘ছোট পুকুরে মাছ চাষ’ প্রকল্পের মাধ্যমেও দেশি প্রজাতি বিনামূল্যে বিলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



