Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বড়ঞায় বাস করতেন ত্রিপল টাঙিয়ে, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন, আবাসের বাড়ি বৃদ্ধ দম্পতিকে

বড়ঞায় বাস করতেন ত্রিপল টাঙিয়ে, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন, আবাসের বাড়ি বৃদ্ধ দম্পতিকে
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: দশ বছর ধরে এক চিলতে ছিটেবেড়ার ঘরে মাথা গুঁজে কোনওরকমে দিন কাটাচ্ছিলেন বড়ঞা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পারশালিকা গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি। বর্ষায় চাল ফুটো হয়ে জল পড়ত। রাত কাটাতে হতো প্রতিবেশীদের বাড়িতে। পঞ্চায়েত, ব্লকে ঘুরেও আবাস যোজনার ঘর পাননি। বারবার ফিরিয়েছেন ওই সংসদের নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য। বর্ষায় ঘরে জল পড়লেও পাননি সরকারি সাহায্য। পুত্রহীন দম্পতির অভিযোগ, বর্ষায় ত্রিপল চাইতে গেলে পঞ্চায়েত সদস্য বলেছেন, ঘরে আগুন লাগুক তখন ত্রিপল দেব। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি ফোন করে মাথাগোঁজার ঠাঁই পেলেন। বাংলা আবাস যোজনায় ঘরের টাকা আসতেই কালবিলম্ব না করে ইঁট গাঁথার কাজ শুরু করেছেন। জীবনে প্রথম মাথার উপর ছাদ পেতে চলার আনন্দে আত্মহারা বৃদ্ধ দম্পতি। প্রতিবেশীদের কাছে এবেলা ওবেলা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীই আমাদের কাছে ভগবান। উনিই বিপদতারণ। মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে ঘর পাওয়ায় মানিক ঘোষ ও গীতারানি ঘোষকে দেখতে গ্রামে ভিড় জমছে। 
Advertisement
ঘোষ দম্পতির দুই মেয়ে। তাঁদের বিয়ে দিতে চাষের জমির অনেকটা বেচেছেন। সামান্য দেড় বিঘা জমির আয়ে কোনওরকমে সংসার চলে। ছিটেবেড়ার ঘর প্রতি বর্ষায় একটু একটু করে ভেঙে পড়লেও সারানোর সামর্থ ছিল না। গ্রামের মোড়পতলায় সেই আশ্রয়ও মাস দুয়েক আগে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। তারপর থেকে ত্রিপল টাঙিয়ে বাস করছেন। আশি ছুঁইছুঁই মানিক ঘোষ বলেন, তিনবার গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য বদল হয়েছে। প্রত্যেকের কাছে কাতর অনুরোধ করেছি। কেউ কর্ণপাত করেনি। হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম।
মাস দেড়েক আগে মানিকবাবুর স্ত্রী গীতারানি ঘোষ ‘মুখ্যমন্ত্রীকে বলো’-র নম্বরে ফোন করেন। ঘোষ দম্পতির অবস্থার কথা শুনে নবান্ন থেকে সেদিনই ব্লক প্রশাসনের কাছে অনুসন্ধানের নির্দেশ আসে। ঘোষ দম্পতিকে আর ঘুরতে হয়নি। একমাসের মধ্যে প্রশাসনিক সমস্ত কাজ মিটতেই এক সপ্তাহ আগে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে। গীতারানি ঘোষ বলেন, সরকারের প্রধানকে সরাসরি ফোন করায় সহজেই মাথাগোঁজার ঠাঁই পেলাম। উনি ভগবান। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য দেবেন্দ্রনাথ বাগদি বলেন, মানিকবাবুর ঘরের দাবিদার। কবে এনকোয়ারি হয়েছে আমরা জানতাম না। উনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেই ঘর পেয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ