Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে লাগাতার ধর্মঘটে শামিল ঘাটালের পাউরুটি হকাররা

বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে লাগাতার ধর্মঘটে শামিল ঘাটালের পাউরুটি হকাররা
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে পাউরুটি হকাররা ধারাবাহিক ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন। ফলে ঘাটাল মহকুমার দোকানে দোকানে মিলছে না পাউরুটি। বেকারির মালিক এবং হকারদের মতানৈক্যের জেরেই প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন হকাররা। হকাররা জানিয়ে দিয়েছেন, এক শতাংশ কমিশন না বাড়ালে তাঁরা বেকারি থেকে আর কোনও রুটি নিয়ে দোকানে দোকানে বিক্রি করবেন না। এদিকে বেকারির মালিকরা জানিয়েছেন, রুটির দাম বাড়ানোর পাশাপাশি হকারদের আয় বেড়েছে। তাই নতুন করে কমিশনের হার বাড়ানোর কোনও সম্ভাবনা নেই।
Advertisement
সম্প্রতি ঘাটাল মহকুমার বেকারিগুলি রুটির দাম বৃদ্ধি করেছে। ১০০ গ্রাম পাউরুটির প্রতি পিসের আগে বিক্রয়মূল্য ছিল ৯ টাকা। অর্থাৎ ১০৮ টাকা ডজন। ওই ১০৮ টাকার রুটি হকাররা বেকারির কাছ থেকে ৭১ টাকায় পেতেন। আর ২০০ গ্রামের স্লাইস রুটি প্রতি পিস বিক্রয় মূল্য ছিল ১৬ টাকা যেটা হকারদের ১১ টাকা ৫০ পয়সায় দেওয়া হতো। ১ ডিসেম্বর থেকে ওই ১০০ গ্রাম পাউরুটির দাম বাড়িয়ে ১০ টাকা এবং স্লাইস রুটির দাম বাড়িয়ে ১৮ টাকা করা হয়েছে। ওই রুটিগুলি হকারদের যথাক্রমে ৮১ টাকা ডজন এবং ১৩ টাকা ৫০ পয়সা করে বিক্রি করা হয়। হকাররা নিজেদের লভ্যাংশ রেখে দোকানদারদের বিক্রি করেন। দোকানদাররা খদ্দেরকে বিক্রয় মূল্য তথা প্রিন্ট রেটে রুটি বিক্রি করেন। ঘাটাল মহকুমার বেকারি সংগঠনের নেতা  শেখ নাজিরউদ্দিন বলেন, ‘এরপরও আমরা প্রত্যেকটি হকারকে মোট সেলের উপর তিন শতাংশ উৎসাহ ভাতা বা বোনাস দিতাম। সম্প্রতি রুটির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে  হকাররা ওই বোনাস বাড়িয়ে চার শতাংশ করার দাবি তুলেছেন। এটা মানা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’ বেকারি মালিকদের যুক্তি, এমনিতেই হকারদের প্রাত্যহিক রুটি কেনা বেচায় একটা লাভ থাকে। কলকাতা, আরামবাগে দু’ শতাংশ বোনাস দেওয়া হয়। ঘাটালে আগে তিন শতাংশ হারে যে টাকা প্রতি রুটিতে যে টাকা বোনাস পেতেন রুটির দাম বাড়ানো ফলে ওই তিন শতাংশ হারেই আগের থেকে বেশি বোনাস পাবেন। এর পর নতুন করে আর বোনাস বাড়ানো সম্ভব নয়।  তাছাড়া শুধু রুটির দাম বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য বিস্কুটের দাম বাড়ানো হয়নি। বোনাস বাড়ালে অন্যান্য প্রোডাক্টসের জন্য বর্ধিত বোনাস দিতে হবে। 
হকার ইউনিয়নে নেতা শেখ সিরাজ আলির যুক্তি, কলকাতা সহ অন্যান্য জায়গা থেকে বাজারে রুটি আসে। তাই তাঁদের কম লাভ রেখে দোকানদারদের রুটি বিক্রয় করতে হয়। তা না হলে প্রতিযোগিতায় টেকা সম্ভব নয়। অন্যদিকে হকারদের অন্যান্য খরচও বেড়েছে। সেজন্যই তাঁরা এক শতাংশ কমিশন বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন।
নাজিরউদ্দিন বলেন, ‘বোনাস বাড়াতে হলে রুটির ওজন সহ অন্যান্য বিষয়ে আপস করতে হবে। তা না হলে রুটি ব্যবসা চালানো যাবে না। সেজন্যই আমরা বোনাস বাড়াতে চাই না। সেক্ষেত্রে ব্যবসার ভবিষ্যৎ যা হয় হবে।’ দুই পক্ষের মতানৈকের জেরে সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ী ও পাউরুটি প্রেমীরা।
সম্পর্কিত সংবাদ