সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পুলিস প্রশাসনকে থোড়াই কেয়ার। বোলপুর রাজগ্রাম রাজ্য সড়কে পাথর বোঝাই লরি ও ট্রাক্টর থামিয়ে চলছে দেদার তোলাবাজি। কার্যত কুপন ছাপিয়ে প্রকাশ্যে দিনরাত ধরে চলছে জুলুমবাজি। সামাজিক মাধ্যমে এই নিয়ে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার শাসকদলের অঞ্চল স্তরের এক নেতার নির্দেশেই চলছে তোলাবাজি। যদিও কে বা কারা কোন নির্দেশ বলে এই টাকা তুলছে, তা জানতে রামপুরহাট মহকুমা পুলিস আধিকারিক, বিডিও এবং ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের মুরারই ১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সাবিরুল ইসলাম। ঘটনায় মুরারইজুড়ে তোলপাড় অবস্থা, যা তৃণমূল নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। দলের জেলা চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এভাবে টাকা তোলা বেআইনি। দলগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি দেখার জন্য জেলাশাসককে বলব।
Advertisement
হলুদ কাগজের উপর লাল রঙের ছাপা অক্ষরে লেখা ‘মুরারই বাজার রাস্তায় জল প্রদান’ কুপন ৫০ টাকা। কে বা কারা এই কুপন ছাপিয়ে টাকা দাবি করছে, তা অবশ্য লেখা নেই। পাথর শিল্পাঞ্চল এলাকা মুরারই। এছাড়া রয়েছে বাঁশলৈ ও পাগলা নদী। ফলে অবৈধ বালি ও পাথরের কারবার এখানে রমরমা। তেমন রয়েছে ধুলো দূষণও। তাই নিয়ে এলাকার মানুষের অভিযোগও বিস্তর। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলা আদায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনের আলোতেই বোলপুর রাজগ্রাম রাজ্য সড়কের গুসকরা পাওয়ার হাউস মোড়, নতুন বাজার মোড়, ভাদীশ্বর মোড়ে প্রকাশ্যে চলছে জুলুমবাজি। মূলত, পাথর বোঝাই লরি, ডাম্পার থেকে এই টাকা তোলা হচ্ছে। চালক অস্বীকার করলে বচসাও হচ্ছে আদায়কারীদের সঙ্গে। এই রাস্তা দিয়ে পুলিস প্রশাসনের লোকজন যাতায়াত করলেও তাঁরা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলেন, ধুলো যাতে না ওড়ে, সেজন্য দিন তিনেক আগে মুরারই নতুন বাজার মোড়ে ট্যাঙ্কারে করে রাস্তায় জল দেওয়া হয়। তারপরও শুরু হয় তোলা আদায়। এঘটনায় সামনে এসেছে ভিডিও এবং একটি অডিও, যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে। যদিও সেগুলির সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। ভিডিওতে একটি ডাম্পার থেকে হাত বাড়িয়ে কিছু একটা নিচ্ছেন এক যুবক। আর অডিও কথোপকথনে এক আদায়কারীর কথায়, তৃণমূলের অঞ্চলের এক নেতার নির্দেশে টাকা তোলা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন, সরকারি রাস্তায় জল দেওয়ার বিনিময়ে যদি টাকা তোলা হয়, তাহলে তো টেন্ডার হবে। সরকারি তহিবলে টাকা জমা হবে। এই টাকা কোথায় জমা হচ্ছে? বুধবার রাতে পাওয়ার হাউস মোড়ে আদায়কারীদের ঘিরে প্রতিবাদও জানান অনেকে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বর্ষার মরশুমে যখন নদনদী থেকে বালি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তখনও ওই নেতা অবৈধভাবে নদী থেকে বালি তুলে কখনও পাচার, কখনও আবার রাস্তার ধারে মজুত করে চড়া দামে বিক্রি করে এসেছে।
সাবিরুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা অবৈধভাবে টাকা তুলছে, তা জানি না। তবে এই তোলাবাজি যাতে বন্ধ করা হয়, সেজন্য তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক স্তরে লিখিতভাবে আর্জি জানিয়েছি।
এদিকে তৃণমূলের এই অঞ্চলের সভাপতি লালু শেখ বলেন, লরি ও ট্রাক্টর মালিকরা বসে এই টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাছাড়া এখানে দলের গ্রুপবাজি রয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষর নামে অভিযোগ তুলছে।
অন্যদিকে মুরারই থানার পুলিস জানিয়েছে, কুপনে কোনও শিল ছাপ নেই। সেটি কানে আসতেই বিডিও, বিএলএলআরও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে জানিয়েছি। যদিও বিডিও বীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, রাস্তায় জল দেবে আর টাকা তুলবে এমন এক সমাজসেবী লোক জন্ম নিয়েছিল। বিষয়টি কানে আসতেই ব্যবস্থা নিয়েছি। জল দেওয়ার দরকার নেই, টাকা তোলারও দরকার নেই।
• নিজস্ব চিত্র
স্থানীয়রা বলেন, ধুলো যাতে না ওড়ে, সেজন্য দিন তিনেক আগে মুরারই নতুন বাজার মোড়ে ট্যাঙ্কারে করে রাস্তায় জল দেওয়া হয়। তারপরও শুরু হয় তোলা আদায়। এঘটনায় সামনে এসেছে ভিডিও এবং একটি অডিও, যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে। যদিও সেগুলির সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। ভিডিওতে একটি ডাম্পার থেকে হাত বাড়িয়ে কিছু একটা নিচ্ছেন এক যুবক। আর অডিও কথোপকথনে এক আদায়কারীর কথায়, তৃণমূলের অঞ্চলের এক নেতার নির্দেশে টাকা তোলা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন, সরকারি রাস্তায় জল দেওয়ার বিনিময়ে যদি টাকা তোলা হয়, তাহলে তো টেন্ডার হবে। সরকারি তহিবলে টাকা জমা হবে। এই টাকা কোথায় জমা হচ্ছে? বুধবার রাতে পাওয়ার হাউস মোড়ে আদায়কারীদের ঘিরে প্রতিবাদও জানান অনেকে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বর্ষার মরশুমে যখন নদনদী থেকে বালি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তখনও ওই নেতা অবৈধভাবে নদী থেকে বালি তুলে কখনও পাচার, কখনও আবার রাস্তার ধারে মজুত করে চড়া দামে বিক্রি করে এসেছে।
সাবিরুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা অবৈধভাবে টাকা তুলছে, তা জানি না। তবে এই তোলাবাজি যাতে বন্ধ করা হয়, সেজন্য তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক স্তরে লিখিতভাবে আর্জি জানিয়েছি।
এদিকে তৃণমূলের এই অঞ্চলের সভাপতি লালু শেখ বলেন, লরি ও ট্রাক্টর মালিকরা বসে এই টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাছাড়া এখানে দলের গ্রুপবাজি রয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষর নামে অভিযোগ তুলছে।
অন্যদিকে মুরারই থানার পুলিস জানিয়েছে, কুপনে কোনও শিল ছাপ নেই। সেটি কানে আসতেই বিডিও, বিএলএলআরও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে জানিয়েছি। যদিও বিডিও বীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, রাস্তায় জল দেবে আর টাকা তুলবে এমন এক সমাজসেবী লোক জন্ম নিয়েছিল। বিষয়টি কানে আসতেই ব্যবস্থা নিয়েছি। জল দেওয়ার দরকার নেই, টাকা তোলারও দরকার নেই।
• নিজস্ব চিত্র



