Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিনিয়োগের নামে বিদেশে বসে মানুষকে আয়ের টোপ, টাকা লোপাট প্রতারকদের

বিনিয়োগের নামে বিদেশে বসে মানুষকে আয়ের টোপ, টাকা লোপাট প্রতারকদের
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: ডিজিটাল অ্যারেস্ট অথবা বিনিয়োগের মাধ্যমে অতিরিক্ত লাভ পাইয়ে দেওয়া— এভাবেই বিদেশে বসে প্রতারণার ছক কষে মানুষকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে সাইবার প্রতারকরা। তাদের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই বহু টাকা খুইয়েছেন। তাই নিয়ে জেলা সাইবার ক্রাইম থানায় ইতিমধ্যেই জমা পড়ছে একাধিক অভিযোগ। এই সব অভিযোগের তদন্তে নেমে সাইবার ক্রাইম পুলিস জানতে পারছে, মূলত কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম সহ একাধিক দেশ থেকে এই প্রতারণা চক্র পরিচালনা করছে প্রতারকরা। তারা চীনের সার্ভারের মদত নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে এই সাইবার প্রতারণা চক্র চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতারকদের ‘সফট টার্গেট’ হল যাঁরা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ কাজ খুঁজছেন। এছাড়া যাঁরা কম সময়ের মধ্যে বিনা পরিশ্রমে বাড়িতে বসে শুধু বিনিয়োগের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা রোজগারের স্বপ্ন দেখেন, তাঁরাও প্রতারকদের টার্গেট। বিষয়টি নিয়ে জেলা সাইবার ক্রাইম থানার পুলিস ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়েও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পরও একাধিক প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ছে। 
Advertisement
সাইবার ক্রাইম পুলিসের দাবি, প্রতি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষকে বাড়িতে বসে রোজগারের টোপ দিয়ে বিভিন্ন লিঙ্ক পাঠিয়ে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার টোপ দিচ্ছে প্রতারকরা। সোশ্যাল মিডিয়াকেও প্রচারের হাতিয়ার করছে তারা। ফোরেক্স ও শেয়ার মার্কেটের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে কারেন্সি ফান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল আয়ের লোভ দেখাচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে সেই আয়ও দেখিয়ে দিচ্ছে তারা। তারপর অ্যাপে বিনিয়োগের পর দেখা যাচ্ছে সেই অ্যাপটি ‘ফ্রড’। অর্থাৎ পুলিসের দাবি, সাধারণ মানুষের কাছে বিনিয়োগের নামে টাকা হাতিয়ে নিমেষের মধ্যে বিদেশের কোনও অ্যাকাউন্টে সেই টাকা সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে পুলিসও সেই টাকা উদ্ধারে রীতিমতো বিপাকে পড়ছে। 
এছাড়া সাইবার প্রতারকদের আরও একটি প্রতারণার পদ্ধতি হল ডিজিটাল অ্যারেষ্ট। দিল্লি কাস্টমস বিভাগ বা আয়কর বিভাগের নামে ফোন করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, প্রতারকরা আকর্ষণীয় একটি আইভিআর রেকর্ডিং কলের মাধ্যমে সরকারি ওই সব সংস্থার নাম করে বলছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে একটি পার্সেল এয়ারপোর্টে ধরা পড়েছে। সেই পার্সেলটি বেআইনি। তাই সেই ব্যক্তিকে বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়ে টাকা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হচ্ছে বলেও ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও পুলিসের দাবি, আইনে ডিজিটাল অ্যারেস্ট নামে কোনও বিধান নেই। তাই এই ধরনের ফোন এড়িয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সম্পর্কিত তথ্য প্রতারকদের না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে পুলিস। বীরভূমের মহম্মদবাজার, বোলপুর সহ একাধিক জায়গায় এমন প্রচুর ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিসের দাবি। বোলপুরে এক মহিলাকে কাস্টমস বিভাগের নাম করে পার্সেল ধরা পড়ার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতানোর চেষ্টা করেছিল প্রতারকরা। 
জেলা সাইবার ক্রাইম পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বিদেশ থেকে এই সাইবার প্রতারকরা টার্গেট করছে। ভয় এবং লোক দেখিয়ে প্রতারকরা সাধারণ মানুষের টাকা লোপাটের চেষ্টা করছে। আমরা সাধারণ মানুষকে নানাভাবে সচেতন করছি। তারপরও প্রচুর অভিযোগ আসছে। মানুষকে সচেতন হতেই হবে।   
সম্পর্কিত সংবাদ