Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঙালির পাতে খেজুর গুড় দিতে রামপুরহাটে উপস্থিত শিউলিরা

বাঙালির পাতে খেজুর গুড় দিতে রামপুরহাটে উপস্থিত শিউলিরা
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভোরের কুয়াশা শীতের আগমন বার্তা দিচ্ছে। এখন থেকেই সুদূর নদীয়া থেকে খেজুর রস সংগ্রহ করতে রামপুরহাট ও মল্লারপুরে হাজির হয়েছেন শিউলিরা। রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছ তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাঁরা। তাঁদের এখন ঠিকানা রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধার। যত্রতত্র খেজুর গাছের পাতা দিয়ে তৈরি করছেন দিনযাপনের অস্থায়ী আস্তানা। সেখান থেকেই তাঁরা খেজুর গুড় বিক্রি করবেন।  
Advertisement
অন্যবার নভেম্বরের মাঝামাঝি শিউলিদের দেখে মেলে। এবার প্রায় ১৫ দিন আগেই তাঁরা হাজির হয়েছেন। রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম জাতীয় সড়কের দু’ ধারে অসংখ্য খেজুরের গাছ। সারাবছর অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকে গাছগুলি। শীত এলে সেই সব গাছের কদর বাড়ে। 
নদীয়ার নাকাশিপাড়া থেকে আগত মিনারুল শেখ বলেন, গতবার নভেম্বর মাসে সিউড়ির খয়রাকুড়ি এলাকায় রস সংগ্রহের জন্য ঘাঁটি গেড়েছিলাম। তখন একজনের অধীনে শ্রমিকের কাজ করতাম। এবার নিজেই মল্লারপুরে সড়কের ধার ও একটি আশ্রমের ভিতরে থাকা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করব। ছিঁটেবেড়ার পাশেই তৈরি হচ্ছে উনুন। তাতেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হবে সোনালি খেজুর গুড়। শিউলিরা বলেন, বছরের অন্য সময়ে জমিতে জন খাটি। শীতে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে দুটো বাড়তি পয়সার মুখ দেখি। আলিমুদ্দিন শেখ বলেন, আগাম খেজুরের গুড় পেতে শীতের শুরুতেই গাছ তৈরি শুরু করেছি। এক-একজন দিনে ১৫-১৬টি গাছ তৈরি করছি। 
নাকাশিপাড়া থেকে আসা জুয়েল শেখ বলেন, যত কড়া শীত পড়বে তত বেশি মিষ্টি রস দেবে খেজুর গাছ। তবে সরকারি জায়গায় গাছ হলেও খরচ যে নেই তা নয়। যে এলাকার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করব সেখানকার ক্লাবগুলিকে রীতিমতো চাঁদা দিতে হয় বলে শিউলিরা জানাচ্ছেন। সেই সঙ্গে গ্রামের অনেককেই ফ্রিতে খেজুর গুড় দিতে হয়। ফলে আয় যে খুব বেশি হয় তা নয়। জুয়েল বলেন, ১০০ টাকা কেজি ঝোলা গুড় ও ১২০ টাকা কেজি পাটালি বিক্রি করি। এবার হয়তো ১০ টাকা দাম বাড়াতে হতে পারে।  শিউলিরা বলেন, দেড়-দু’ ভাঁড় রস জাল দিলে তবে এক কিলোগ্রামের মতো খাঁটি পাটালি মেলে। বিশেষ স্বাদ ও গন্ধের কারণে বসিরহাট মহকুমায় নলেন গুড়ের চাহিদা রয়েছে। জাতীয় সড়কে চলাচলকারী চারচাকা, বড় গাড়ি বা বাইক দাঁড় করিয়ে অনেকেই খেজুর গুড় কিনে নিয়ে যান। আসেন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরাও। জানুয়ারি মাসের শেষে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরব।  
সম্পর্কিত সংবাদ