Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বঙ্গের ‘জামতাড়া’ চোপড়া থেকে গ্রেপ্তার আরও পাঁচ

বঙ্গের ‘জামতাড়া’ চোপড়া থেকে গ্রেপ্তার আরও পাঁচ
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে ট্যাবের টাকা জালিয়াতির ঘটনায় চোপড়া থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতদের মধ্যে দু’জন ওই জালিয়াতি চক্রের মাথা বলে দাবি জেলা পুলিসের। আজ, মঙ্গলবার ধৃতদের তমলুক থানায় আনা হবে। ধৃতদের নাম উসমান আলি, মনসুর আলম, মোজাম্মেল হক, মোতাব্বের আলি ও রোশন জামাল। এদের মধ্যে উসমান ও মনসুর ওই চক্রের মাথা বলে জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারমধ্যে তমলুক থানায় একটি কেসে ন’জন এবং চণ্ডীপুরে দায়ের হওয়া মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেশকিছু নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতে এই কেসের চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
Advertisement
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, জেলায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির মোট ২৩০ জন পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে ট্যাব কেনার টাকা ঢোকেনি। আমরা তাদের নামের তালিকা এবং অ্যাকাউন্ট নম্বর জোগাড় করেছি। প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা ঢুকবে।
মোট তিনটি স্তরে এই জালিয়াতি হয়েছে বলে পুলিসি তদন্তে উঠে এসেছে। জালিয়াতি চক্রের মাথারা বাংলার শিক্ষা পোর্টাল হ্যাক করেছিল। তারা হ্যাক করার পর দ্বিতীয় স্তরের কয়েকজন সেখানে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট নম্বর এন্ট্রির কাজ করে। টিমের তৃতীয়স্তরের সদস্যদের দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সিএসপি (কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট) থেকে অ্যাকাউন্ট নম্বর জোগাড় করা। তাদের অ্যাকাউন্ট নম্বর জোগাড় করার টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকজন সিএসপি এজেন্টের থেকে ওইসব অ্যাকাউন্ট নম্বর জোগাড় করা হয়। সেই অ্যাকাউন্ট নম্বরগুলিই পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্ট নম্বরের জায়গায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, মোট জালিয়াতির ৭৫-৮০ শতাংশ টাকা গিয়েছে চোপড়ার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে। এছাড়াও মালদহের বৈষ্ণবচকের কিছু অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ শতাংশ টাকা ঢুকেছে।
ট্যাবকাণ্ডে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিস আগেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তাদের মধ্যে চারজনের বাড়ি চোপড়া। এছাড়া মালদহের বৈষ্ণবনগর থেকে সুব্রত বসাক নামে একজন সিএসপি কর্ণধারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই সোমবার আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এদিনই তাদের ইসলামপুর আদালতে তোলা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে তাদের তমলুক থানায় আনা হবে। ধৃতদের কাছ থেকে বেশকিছু ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের তমলুকে আনার পর তাদের জেরা করবে স্পেশাল টিম।
ট্যাব জালিয়াতির ঘটনায় রাজ্যস্তরে গঠিত এই স্পেশাল টিমের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই তদন্ত করছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিস। উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর ট্যাবকাণ্ডে তমলুক থানায় এফআইআর করেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) শুভাশিস মিত্র। এছাড়া, চণ্ডীপুর থানার দিবাকর হাইস্কুল এবং মুরাদপুরের বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষকরাও নিজেদের স্কুলে ট্যাব জালিয়াতির ঘটনায় এফআইআর করেন। তবে, তমলুক থানায় ডিআইয়ের দায়ের করা এফআইআরকে মাথায় রেখেই গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ