Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেঙ্গালুরুতে রাস্তায় বড়শুলের গৃহবধূকে কুপিয়ে নৃশংস খুন, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় হামলা, কেটে ফেলা হয় নলি

বেঙ্গালুরুতে রাস্তায় বড়শুলের গৃহবধূকে কুপিয়ে নৃশংস খুন, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় হামলা, কেটে ফেলা হয় নলি
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুখেন্দু পাল, শক্তিগড়: প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় বেঙ্গালুরুতে প্রকাশ্য রাস্তায় শক্তিগড়ের বড়শুলের এক বধূকে কুপিয়ে খুন করেছে এক যুবক। মহুয়া মণ্ডল(২৬) নামে ওই গৃহবধূর পেটে এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ মারা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলার নলিও কেটে দেয়। ভাড়াবাড়ির কাছেই তাঁকে খুন করা হয়। তিনি যাতে চিৎকার করতে না পারেন তারজন্য মুখে ওড়না গুঁজে দেওয়া হয়েছিল। বেঙ্গালুরুর আইটিপিএল এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলে সুপারভাইজারের কাজ করতেন তিনি। শনিবার মৃতদেহ সেখান থেকে বড়শুলের বাড়িতে আনা হয়। বড়শুলেই মৃতার বাপেরবাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি।
Advertisement
মৃতের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় মহুয়া কর্মস্থল থেকে ভাড়াবাড়িতে ফিরছিলেন। তাঁর সহকর্মীও সঙ্গে ছিলেন। তিনি অন্য একটি ভাড়াবাড়িতে থাকেন। একসঙ্গে কিছুটা রাস্তা হেঁটে আসার পর তিনি বাড়িতে ঢুকে যান। সেইসময় মহুয়াকে একা পেয়ে ভাড়াবাড়ির কাছেই ওই যুবক ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি লুটিয়ে পড়েন। গোঙানির আওয়াজ শুনে মৃতার ছ’বছরের ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। মা-কে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সে চিৎকার শুরু করে দেয়। আশপাশের লোকজন স্থানীয় থানায় খবর দেয়। পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। মৃতার মা পার্বতী গোলদার বলেন, মেয়ে আগে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কাজ করত। সেখানে ওই যুবকও কাজ করত। সে মেয়েকে বিরক্ত করতে থাকে। প্রেমের প্রস্তাব দেয়। মেয়ে তা মেনে নেয়নি। তারপরও ওই যুবক ওকে ফোনে বিরক্ত করত। তার অত্যাচারে সে ওই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে দেয়। কিছুদিন পর বেসরকারি স্কুলে সুপারভাইজার হিসেবে কাজে যোগ দেয়। তারপরও সে মেয়ের পিছু ছাড়েনি। মেয়ের ছুটি হলেই ও পিছু নিত। ফোনেও বিরক্ত করত। বাধ্য হয়ে বিষয়টি এলাকার লোকজনকে জানানো হয়। তারা ওই যুবককে ডেকে ধমক দেয়। তাতেও কাজ হয়নি। মৃতার মা আরও বলেন, সাত বছর আগে বড়শুলেই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। কাজের জন্য মহুয়া স্বামীর সঙ্গে বেঙ্গালুরু যায়। কালীপুজোর সময় বাড়ি এসেছিল। কার্তিক পুজোর পর আবার বেঙ্গালুরু যায়। ও সবসময় আতঙ্কে থাকত। মৃতার স্বামী হরিপদ মণ্ডল বলেন, খুন করার পর ওই যুবকও আত্মহত্যা করেছে। ফাঁকা মাঠে ও গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ওকে অনেকবার সতর্ক করা হয়েছিল। তারপরও স্ত্রীকে বিরক্ত করত। পরিবারের লোকজন জানান, ঘটনার দিন আততায়ী আগে থেকে এলাকায় লুকিয়েছিল। মহুয়ার সঙ্গে প্রায়দিনই তার এক সহকর্মী ফিরতেন। তা ওই যুবক জানত। সেকারণে ওই সহকর্মী ভাড়াবাড়িতে ঢুকে যাওয়ার পরই সে আক্রমণ করে। রাস্তায় সেইসময় লোকজন ছিল না। সেই সুযোগে  ছুরি দিয়ে সে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে থাকে। ভাড়াবাড়ির কাছেই ওই ঘটনা হয়। মৃতার ছ’বছরের ছেলে প্রথম মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনার পর থেকে সে আতঙ্কিত হয়ে রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ