Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বনদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে

বনদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে
  • ১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বনদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই রাস্তার ধারে গাছ কাটার অভিযোগ উঠল ময়ূরেশ্বর-১ ব্লকের দক্ষিণগ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিন শনিবার গাছ কেটে ট্রাক্টরে মজুত করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গ্রামবাসীরা ট্রাক্টর আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিস আসে। পরে খবর পেয়ে বনদপ্তরের লোকজন এসে গাছের কাটা গুঁড়ি বোঝাই একটি ট্রাক্টর আটক করে নিয়ে যায়। বনদপ্তরের তম্বুনি রেঞ্জের বিট অফিসার সঞ্জীব সাহা বলেন, ওই গাছগুলি কাটার জন্য দপ্তরের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। ট্রাক্টর সহ কাটা গাছগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।  
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পঞ্চায়েতের মল্লারপুর থেকে হাজীপুর যাওয়ার রাস্তার ধারের গাছগুলি কাটা হচ্ছিল। এদিন সকালে গ্রামবাসীরা মাঠের কাজে এসে গাছ কেটে ট্রাক্টরে মজুত করা হচ্ছে দেখতে পান। শ্রমিকরা জানিয়ে দেয়, পঞ্চায়েতের নির্দেশে গাছগুলি কাটা হচ্ছে। কিন্তু নির্দেশের কোনও কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেনি। এরপরই ট্রাক্টর আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। বিক্ষোভের খবর পেয়ে সেখানে আসে পুলিস। পরে বনদপ্তরের লোকজন এসে ট্রাক্টর সহ গাছের কাটা অংশগুলি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়। এলাকার বাসিন্দা রিয়াজউদ্দিন শেখ বলেন, প্রায় একশোটি গাছ কাটা হয়েছে। গ্রীষ্মের প্রখর রোদের সময় এই গাছের তলায় বসে বহু পথচলতি মানুষ জিরিয়ে নিত। পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বেআইনিভাবে গাছ কেটে ফাঁকা করে দেওয়া হচ্ছে এলাকা। বনদপ্তরের অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়া গাছ কেটে বেনিয়ম করছেন প্রধান ও উপপ্রধান। 
যদিও এব্যাপারে জানতে প্রধান রেখা হাজরা ও উপপ্রধান বিমল রায়কে বহুবার ফোন করা হলেও তাঁরা ধরেননি। তবে ঘটনাস্থলে থাকা এলাকার তৃণমূল নেতা চাঁদ দাঁই বলেন, রাস্তার ধারের বেশকিছু গাছ শুকনো হয়ে পড়েছিল। যে কোনও সময় পড়ে মানুষের ক্ষতি হতে পারত। তাই প্রধান সেই গাছগুলি কেটে পঞ্চায়েতে রাখার নির্দেশ দেন। পরে টেন্ডার করা হবে। তিনদিন আগে চার-পাঁচটা গাছ কেটে চুরি হয়েছে। পুলিস আসায় দুষ্কৃতীরা একটি গাছ অর্ধেক কাটা অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়। সেই গাছটি পড়ে যেতে পারে। তাই সেটিও কাটা হয়েছে। তবে বনদপ্তরের অনুমতির বিষয়টি জানা নেই। বিডিও আবুল আলম মাবুদ আনসারি বলেন, গাছ কাটার ব্যাপারে কিছু জানি না। বেনিয়ম কিছু হয়ে থাকলে বনদপ্তর পদক্ষেপ করবে। তারা আমাদের কোনও তথ্য দিলে সেটি খতিয়ে দেখব।
সম্পর্কিত সংবাদ