Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্দুক উঁচিয়ে সংবাদপত্রের গাড়িতে ছিনতাই কাণ্ড, আন্তঃরাজ্য দুষ্কৃতীদের যোগ নিয়ে সন্দেহ

বন্দুক উঁচিয়ে সংবাদপত্রের গাড়িতে ছিনতাই কাণ্ড, আন্তঃরাজ্য দুষ্কৃতীদের যোগ নিয়ে সন্দেহ
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: প্রবল ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে বাঁকুড়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ছিনতাইকারী দল। খাতড়ায় খবরের কাগজ নিয়ে যাওয়া গাড়িতে দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের পর জঙ্গলমহলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ছিনতাইয়ের পর দুষ্কৃতীরা পুরুলিয়ার মানবাজারের দিকে চম্পট দেয়। আন্তঃরাজ্য দুষ্কৃতীরা জড়িত বলে পুলিস মনে করছে। ছিনতাইয়ের কবলে পড়া গাড়ির চালককে বুধবার খাতড়া থানার পুলিস ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিস। ওই ঘটনার পর জঙ্গলমহলের রাস্তাঘাটে পুলিসি টহল আরও বাড়ানো হবে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
Advertisement
বাঁকুড়া জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ছিনতাইয়ের অভিযোগ জমা পড়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। জেলার রাস্তায় রাতভর পুলিস টহল দেয়। নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পুরুলিয়ার দিকে দুষ্কৃতীদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে কুয়াশার কারণে দুষ্কৃতীদের গাড়ির নম্বর রাস্তার মোড়ে থাকা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। এমনকী, ঘটনার রাতে হাতিরামপুর এলাকায় পুলিসের একটি টহলদারি ভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। সন্দেহভাজন কোনও গাড়ির গতিবিধি ভ্যানে থাকা পুলিস কর্মীদের নজরেও পড়েনি। ফলে সবদিক খতিয়ে না দেখা পর্যন্ত আমরা বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে ছিনতাইকারীদের মধ্যে গাড়ি চালকের পরিচিত কেউ থাকতে পারে। চালকের কাছে মোটা নগদ থাকার বিষয়টি সে আগাম জানত। গাড়ি চালকের সঙ্গে আমরা কথা বলব।
গাড়ি চালক রাজীব কুণ্ডু বলেন, এদিন সকালে পুলিস আমার অভিযোগ জমা নেয়। তারপর তদন্তকারীরা আমাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কীভাবে ঘটনা ঘটেছিল, তা পুলিস আধিকারিকদের সামনে তুলে ধরি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোরে বাঁকুড়া শহর থেকে পত্র-পত্রিকা নিয়ে গাড়িটি খাতড়া যাচ্ছিল। খাতড়া থানার সুপুর এলাকায় বাঁকুড়া-রানিবাঁধ রাজ্য সড়কে ছিনতাইকারীরা গাড়িটিকে আটকায়। একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ে ওভারটেক করে তারা কাগজের গাড়িটির সামনে আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে দেয়। তারপর চালককে ‘গান পয়েন্টে’ রেখে দুষ্কৃতীরা অপারেশন সারে। ঘটনার পর তারা ফের গাড়ি ঘুরিয়ে হাতিরামপুর-মানবাজার রোড ধরে চলে যায়। গাড়ি চালকের কাছে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড সহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়।
ঘটনার পর খাতড়া থানার পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগপত্র জমা নিতে পুলিস ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়। বিষয়টি এদিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর পুলিস কর্তারা নড়েচড়ে বসেন। জেলা পুলিসের চাপে খাতড়া থানা এদিন সকাল থেকে ময়দানে নামে। ততক্ষণে ছিনতাইকারীরা পগারপার। ঘটনার পরপরই খাতড়া থানা সক্রিয় হলে দুষ্কৃতীদের নাগাল পাওয়া সম্ভব হতো বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। সেক্ষেত্রে আশপাশের থানা ও পুরুলিয়া জেলা পুলিসকে দ্রুত সতর্ক করা গেলে নাকা পয়েন্টে দুষ্কৃতীদের গাড়িটিকে রোখা যেতে পারত। কিন্তু, পুলিসের উদাসীনতায় তা হয়ে ওঠেনি বলে ওয়াকিবহল মহল মনে করছে। 
খাতড়ার এক পুলিস আধিকারিক সাফাই দিয়ে বলেন, গাড়ি চালকের বয়ানে থানা প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। সেই কারণে অভিযোগপত্র জমা নিতে পুলিস আধিকারিকরা কিছুটা সময় নেন।
সম্পর্কিত সংবাদ