সংবাদদাতা, করিমপুর: করিমপুর-১ ব্লকের হোগলবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প। সেই ফাঁকা জায়গাতেই এখন বসছে নেশার আসর। নানান অসামাজিক কাজও চলছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। অসমাপ্ত এই প্রকল্প প্রায় দুই বছর আগে তৈরি হলেও এখনও তা চালু হয়নি। স্থানীয়রা জানান, হোগলবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ট্যাংরাতলার কাছে সরকারি খাস জমির উপর এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল। প্রতি বাড়ি থেকে নোংরা আবর্জনা সংগ্রহ করার জন্য তখন তিনটি ভ্যান দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি এই কাজের জন্য এলাকার ছয় জনকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। পঞ্চায়েত থেকে বাড়ির আবর্জনা জমা রাখার জন্য এলাকার প্রতিটি বাড়িতে দু’টি করে প্লাস্টিকের বালতি দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল এখানে পচনশীল আবর্জনা পচিয়ে সার তৈরি করা হবে ও যে সকল বস্তু পচনশীল নয় তা ধ্বংস করে ফেলা হবে। উৎপাদিত সার চাষিদের বিক্রয় করা হবে। এলাকার মানুষের অভিযোগ, বছর দু’য়েক আগে সরকারি বহু টাকা খরচ করে ঢাক পিটিয়ে এই প্রকল্পের উদ্বোধনও হয়ে গিয়েছে। অথচ যে উদ্দেশ্যে করা হল সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত এলাকার মানুষ। এখন প্রকল্পের পরিষেবা কেউ পাচ্ছেন না। উল্টে রাত হলেই পড়ে থাকা ঐ প্রকল্পের জায়গায় চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। এব্যাপারে প্রশাসনের একটা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ওই পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা বলেন, শহরের মতো গ্রামে আবর্জনা ফেলার খুব বেশি সমস্যা নেই। এখানে পচনশীল আবর্জনা বাড়ির আশেপাশের জমিতে ফেললেই সার হয়ে যায়। এছাড়া আনাজের উচ্ছিষ্ট গবাদি পশুরা খায়। শুধুমাত্র পচনশীল নয় বাড়ির এমন আবর্জনা সংগ্রহ করে ওখানে নিয়ে গেলে খুব ভালো হতো। এত টাকা খরচ করে যখন তৈরি হয়ে গিয়েছে তখন প্রশাসনের খুব শীঘ্রই ওই প্রকল্প চালু করা উচিত। হোগলবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান প্রকাশচন্দ্র মণ্ডল বলেন, করিমপুর-১ ব্লক প্রশাসনের আর্থিক সাহায্যে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। কিন্তু নিযুক্ত লোকেরা কাজ না করায় সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারপর গত পঞ্চায়েত ভোটে জিতে এই গ্রাম পঞ্চায়েত নতুন করে পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে বিজেপি। তারপরে কী হয়েছে জানি না। হোগলবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের
Advertisement
বর্তমান বিজেপির প্রধান রুমা ঘোষ বলেন, ওই কাজটি ব্লকের অধীনে হয়েছে। পঞ্চায়েতের দায়িত্ব বদলের পর তৃণমূলের নেতৃত্বে ওই প্রকল্পের উদ্বোধন হলেও আমাদের কিছু জানানো হয়নি। করিমপুর-১ বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী বলেন, খুব শীঘ্রই ওখানে তৈরি প্রকল্প চালু করার চেষ্টা চলছে।



