সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: কেন্দ্র ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় জঙ্গলমহলে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। ঝাড়গ্রামের ওড়িশা সীমানার নয়াগ্রাম এলাকার খেটে খাওয়া মানুষরা কেন্দ্র সরকারের উপর চাপা ক্ষোভে ফুঁসছে। তাদের একটাই দাবি ‘কাজ নেই, কাজ চাই’। পুরুষরা অনেক আগেই শ্রমিকের কাজে ভিন রাজ্যে চলে গিয়েছেন। এবার মহিলারা পিকআপ ভ্যান বোঝাই হয়ে ভিন জেলায় ও ওড়িশায় ‘নামাল’ খাটতে যাচ্ছেন। তাঁদের কথায়, আগে নামাল খাটতে গেলে সেখানেই রাত্রিযাপন করে থাকতে হতো। এখন সর্দার পিকআপ ভ্যানে সবাইকে চাপিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ঘনাবার আগেই গ্রামে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এই নিয়ে নয়াগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপা বেরা বলেন, বিজেপি চালিত কেন্দ্র সরকার ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের চরম ক্ষতি হয়েছে। আমাদের রাজ্য সরকার যখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প দিয়ে মহিলাদের স্বনির্ভর করার চেষ্টা করছেন, ঠিক সেই সময় কেন্দ্র সরকার সাধারণ মানুষকে পেটে মারার চেষ্টা করছে। যার ফলে বিভিন্ন নির্বাচনে দিকে দিকে তারা ধরাশায়ী হচ্ছে।
Advertisement
পেটের দায়ে ঘাটাল, তমলুক ও পূর্ব মেদিনীপুরের সমতল এলাকায় চাষের কাজে যাওয়াকে বলা হয় ‘নামাল খাটা’। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃষক বন্ধু, লোকপ্রসার প্রকল্পের ভাতা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ একাধিক মানবিক উন্নয়নমুখী প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে খেটে খাওয়া মানুষের অভাব অনেকটাই দূর হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্র ১০০ দিনের টাকা না দেওয়ায় সে কাজ বন্ধ রয়েছে। নয়াগ্রাম ও বেলপাহাড়ী এলাকায় চাষযোগ্য সমতল জমি কম থাকায় খেটে খাওয়া পরিবারের সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে এই সমস্ত পরিবারগুলি জীবন জীবিকা রুজি রোজগার টান পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নামাল খাটতে যাওয়া এক শ্রমিক বলেন, নামালে কাজ করতে গেলে আমাদের দৈনিক ৩০০ টাকা করে দিচ্ছে। সবার বেতন থেকে গাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। চাষের কাজ শেষ হতে না হতেই বরো ধান চাষের জমি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ফলে দু’-তিন মাস ভালো কাজ পাওয়া যাবে।
নয়াগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতি প্রাক্তন বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ বঙ্কিম ভোক্তা বলেন, নয়াগ্রাম এলাকার প্রায় প্রত্যেকটি গ্রাম থেকেই মহিলারা পিকআপ ভ্যান বোঝাই হয়ে দূর দূরান্তে নামাল খাটতে যাচ্ছেন। ১০০ দিনের কাজ চালু থাকলে এই সমস্যা তৈরি হতো না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নামাল খাটতে যাওয়া এক শ্রমিক বলেন, নামালে কাজ করতে গেলে আমাদের দৈনিক ৩০০ টাকা করে দিচ্ছে। সবার বেতন থেকে গাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। চাষের কাজ শেষ হতে না হতেই বরো ধান চাষের জমি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ফলে দু’-তিন মাস ভালো কাজ পাওয়া যাবে।
নয়াগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতি প্রাক্তন বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ বঙ্কিম ভোক্তা বলেন, নয়াগ্রাম এলাকার প্রায় প্রত্যেকটি গ্রাম থেকেই মহিলারা পিকআপ ভ্যান বোঝাই হয়ে দূর দূরান্তে নামাল খাটতে যাচ্ছেন। ১০০ দিনের কাজ চালু থাকলে এই সমস্যা তৈরি হতো না।



