সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান সংশোধনাগারের বন্দিদের হেরোইন পাচার করা এবং ভিতর থেকে মোবাইল উদ্ধার হওয়ার মামলায় বর্ধমান আদালতের আইনজীবী সহ চারজনকে বেকসুর খালাস করল আদালত। প্রমাণাভাবে এবং আইন মেনে তল্লাশি না হওয়ায় অভিযুক্ত আইনজীবী সুদীপ্তকুমার রায়, ইসমাতারা বিবি, শেখ মনিরুল ও শ্যামল দাসকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দেন বর্ধমানের মাদক সংক্রান্ত বিশেষ আদালতের বিচারক মনোজকুমার রাই।
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর সকালে সংশোধনাগারে বন্দি মনিরুলের কাছে খাবার পৌঁছতে যায় তার স্ত্রী ইসমাতারা। খাবারের প্যাকেট পরীক্ষার সময় সংশোধনাগারের নিরাপত্তারক্ষীরা একটি পুরিয়া পান। তার মধ্যে দু’গ্রাম হেরোইন ছিল বলে দাবি করে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তারক্ষীরা ইসমাতারাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মোবাইল বেজে ওঠে। সংশোধনাগারের ভিতরে থাকা তার স্বামী ইসমাতারাকে ফোনটি করে। এরপরই সংশোধনাগারের সেলে তল্লাশি চালায় পুলিস। তল্লাশিতে মনিরুল ও শ্যামলের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল উদ্ধার হয়। ইসমাতারার কাছ থেকেও দু’টি মোবাইল মেলে। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই সময় অন্য একটি মামলায় সংশোধনাগারে ছিলেন বর্ধমান আদালতে আইনজীবী সুদীপ্ত। তিনি তাঁর ভাইকে মোবাইলে টাকা ভরে দেওয়ার জন্য ফোন করেন বলে জানা যায়। ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে সংশোধনাগারের তৎকালীন সুপার সাব-ইনসপেক্টর শুভেন্দু কৃষ্ণ ঘোষ বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মাদক আইনে মামলা রুজু করে থানা। ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে পুলিস। চার্জশিটে নাম থাকা একজন পালিয়ে যায়। এই চারজনের বিচার চলে। সুদীপ্ত নিজেই সওয়াল করেন। বাকিদের হয়ে আইনজীবী উদয়শঙ্কর কোনার মামলা লড়েন।



