Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বায়োমেট্রিক দিয়ে সার কিনছেন না অনেকে সঠিক হিসেব না থাকায় ঘাটতির শঙ্কা

বায়োমেট্রিক দিয়ে সার কিনছেন না অনেকে সঠিক হিসেব না থাকায় ঘাটতির শঙ্কা
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: সরকারি বিধি অনুযায়ী সার কেনাবেচায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক ব্যবস্থাপনায়। কিন্তু রবি মরশুমের চাষ শুরু হতেই কৃষিদপ্তরের নিয়মভঙ্গ করছেন অনেকেই। ফলে সার বিক্রির যথাযথ হিসেব থাকছে না। সরকারি পোর্টালে আপলোড হওয়া সার বিক্রির তথ্যের সঙ্গে অনেক সারের দোকানের হিসেবের ফারাক থেকে যাচ্ছে। এতে সারের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাবনা বাড়ছে সারের কালোবাজারিরও। এনিয়ে কৃষিদপ্তরের উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন যে সার বিক্রির অনিয়ম ধরতে ছুটির দিনেও দোকানে দোকানে ছুটে বেড়াতে হচ্ছে কৃষি আধিকারিকদের। 
Advertisement
কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এমনিতেই আমাদের কর্মী সংখ্যা অত্যন্ত কম। তারপরও বছরের এই সময়টা আমাদের নজরদারিতে জোর দিতে হয়। গোয়ালপোখর, করণদিঘি, ইটাহার, ডালখোলা সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় বায়োমেট্রিক ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাহ্য করেই একাংশ ব্যবসায়ী সার কেনাবেচা করেন। এর পিছনে অবশ্য কৃষকদের অসচেতনতাকেও দায়ী করছেন অনেকে। উদয়পুর এলাকার চাষি দেবাশিস সাহা সহ রায়গঞ্জ ব্লকের বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, এই সময় ভুট্টা, গম, বোরো ধান, আলু ইত্যাদি চাষ শুরুর প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়েছে। এজন্য খেতে সার দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের অনেকের কাছে নগদ টাকা না থাকায় দোকান থেকে ধারে সার কিনতে হচ্ছে। তখন সার ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলেন রশিদ পরে দেবেন। বায়োমেট্রিকও পরে নেওয়া হবে বলে জানান। আমরাও সরল বিশ্বাসে রশিদ নিচ্ছি না। তবে এর ফলে কী হবে তা আমাদের সঠিক জানা নেই। 
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সার কেনাবেচার বায়োমেট্রিক ঠিকমতো কার্যকর না হলে, সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রকৃত কৃষকদের কত পরিমাণ সার প্রয়োজন তা অজানা থেকে যাবে রাজ্য ও কেন্দ্রের। অসাধু সার ব্যবসায়ীদের একাংশ এর সুযোগ নেবে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রকৃত কৃষকদের আগামীদিনে চাহিদা অনুযায়ী সার পেতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। সার ঘাটতির আশঙ্কাও রয়েছে। 
উত্তর দিনাজপুর জেলা কৃষিদপ্তরের আধিকারিক প্রিয়নাথ দাস বলেন, সার বিক্রির সময় সার ব্যবসায়ীদেরই বায়োমেট্রিক ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া উচিত। এব্যাপারে আগেই জেলার দু’হাজার সার বিক্রেতাকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের একাংশ অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পেয়েই আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। ছুটির দিনও নজরদারি চালানো হচ্ছে। অসাধুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ