নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর বাবাকে দিয়ে বমি পরিষ্কার করানোর ঘটনায় অভিযোগকারী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী। শনিবার তিনি সটান পৌঁছে যান অভিযোগকারী হরিপুর এলাকার বাসিন্দা সমীর শীলের বাড়িতে। চিকিৎসকের ব্যবহারকে দুর্ভাগ্যজনক বলে পরিবারটিকে তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে আর কাউকেই শান্তিপুর হাসপাতালে এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হবে না। যদিও বিধায়কের এই উদ্যোগকে লোক দেখানো বলছে বিজেপি।
Advertisement
সম্প্রতি শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল চিকিৎসা করাতে আসা একটি শিশু বমি করে ফেলায় তার বাবাকে দিয়েই সেই বমি পরিষ্কার করানো হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তন্ময় সরকারের দাবি, যেহেতু রাতের বেলা হাসপাতালে সুইপার নেই, তাই ওই বমি পরিষ্কার করে দিতে হবে বাবাকেই। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে হাসপাতাল সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন শিশুর বাবা সমীর শীল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রীতিমতো তোলপাড় হয় স্বাস্থ্যদপ্তরে। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে শান্তিপুর হাসপাতালের সুপারকে অভিযুক্ত ওই চিকিৎসককে শোকজ করার নির্দেশ দেন নদীয়ার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক। রবিবার বিষয়টি নিয়ে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সুপার তারক বর্মন বলেন, ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল শোকজের উত্তর দেওয়ার জন্য। আমিও চিকিৎসকের কাছ থেকে সেই উত্তর পেয়েছি। তা জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই নেবে। এদিকে, শান্তিপুর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী অভিযোগকারী সমীর শীলের বাড়িতে পৌঁছে যান। তিনি সমীরবাবুর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা তিনি খোঁজ নেবেন বলেও জানান। যদিও বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে অভিযোগকারীর পরিচয় বহু আগে থেকে। তাই আমি বিধায়ক অথবা রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে নয়, পূর্ব পরিচিত হিসেবেই গিয়েছিলাম। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তা আমি অবশ্যই খেয়াল রাখব। একজন চিকিৎসকের এই ধরনের ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে অভিযোগকারী সমীরবাবুই আমাকে জানিয়েছেন, চিকিৎসকের ব্যবহার বেদনাদায়ক হলেও চিকিৎসা পরিষেবা অত্যন্ত ভালো। আমরা যে সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে পারছি, এটাই তার প্রমাণ। যদিও রাজনীতি করতে বিধায়ক ‘স্টান্টবাজি’ করছেন বলে অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। বিষয়টি নিয়ে নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, সমবেদনা জানাতে গিয়েছেন, বেশ ভালো কথা। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা দিন দিন তলানিতে নেমে যাচ্ছে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর তো তাঁকেই দিতে হবে। কেন এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে, তার দায় কি রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি নেবেন না? শান্তিপুর হাসপাতালে পরিষেবা উন্নত করতে হবে এবং দায়িত্ব ওঁকেই নিতে হবে। আর না হলে এই ধরনের রাজনৈতিক সমবেদনা জানিয়ে বেশিদিন টিকে থাকতে পারবেন না।



