Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোমা বিস্ফোরণে উড়ল ঘর, জখম ২, চাঞ্চল্য মুর্শিদাবাদের নাকুড়তলায়  

বোমা বিস্ফোরণে উড়ল ঘর, জখম ২, চাঞ্চল্য মুর্শিদাবাদের নাকুড়তলায়
 
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও সংবাদদাতা, লালবাগ: শুক্রবার বিকেলে বোমার তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল মুর্শিদাবাদের নাকুড়তলা। নাকুড়তলার রামকৃষ্ণপল্লির একটি বাড়িতে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে মুর্শিদাবাদ থানার পুলিস ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। বিস্ফোরণে দুই ব্যক্তি জখম হয়েছে। তাদের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিস্ফোরণে ভেঙে পড়া ঘর থেকে উদ্ধার করে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজন কোনওরকমে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পরে পুলিসের হাতে ধরা পড়ে। বর্তমানে তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা বোমের সকেটের খোল উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিস। ওই ঘরের মধ্যে আরও কয়েকটি বোমা মজুত আছে বলেই মনে করছে পুলিস। খবর দেওয়া হয়েছে সিআইডির বম্ব স্কোয়াডকে। বিজেপি রামকৃষ্ণপল্লির রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। 
Advertisement
মুর্শিদাবাদ থানার আইসি সনৎ দাস বলেন, জখম এক ব্যক্তি ঘরের ভিতরে ছিল। অপরজন পালিয়ে গেলেও পরে তাকে ধরা হয়। কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল তা স্পষ্ট নয়। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ নাকুড়তলা রামকৃষ্ণপল্লির ফরিদ শেখের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ হয়। তীব্র শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। বাড়ির টালির ঘরটির অনেক অংশ ভেঙে যায়। বেশ কিছু টালি চাল থেকে উড়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাড়ির দেওয়ালও। বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তাঁরা জখম ফরিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ফরিদ ওই এলাকায় নতুন বসতি স্থাপন করেছে। তার আগে বাড়ি ছিল বহরমপুর থানা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা বাদল মণ্ডল বলেন, বিকট শব্দ শুনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখি ফরিদের বাড়ি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ঘরে ঢোকা যাচ্ছিল না। গোটা ঘর ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে। অনেক কষ্টে ভিতরে ঢুকে দেখি ফরিদ রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছে। আমরাই ওকে উদ্ধার করি। অপর এক বাসিন্দা বলেন, এখানে এ ধরনের ঘটনা কখনও ঘটেনি। ওই বাড়ির মধ্যে বোমা ছিল, সেটাই ফেটেছে। বোমা তৈরি করছিল কিনা পুলিস তা খতিয়ে দেখুক। বাড়িটিকে সিল করে দিয়েছে পুলিস। কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা যেন অবশ্যই শাস্তি পায়। 
এদিকে ফরিদ তৃণমূল কংগ্রেস করতে বলে দাবি করেছে বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, সারা রাজ্য বোমা বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। মুর্শিদাবাদের অবস্থা আরও ভয়ানক। ভোট আসছে, যেন তেন প্রকারে জিততে হবে তৃণমূলকে। তাই এখন থেকে বোমা বন্দুক মজুত শুরু হয়েছে। এদিন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী ফরিদের বাড়িতে বোমা বাঁধার কাজ চলছিল। তার জেরেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। লালবাগ টাউন কংগ্রেসের সভাপতি অর্ণব রায় বলেন, নাকুড়তলা, বরফখানা প্রভৃতি এলাকা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। পুলিস চোখ বুজে রয়েছে। অপদার্থ পুলিস অফিসারদের আগে সরানো উচিত। তৃণমূলের লালবাগ টাউন সভাপতি ইন্দ্রজিৎ ধর বলেন, ফরিদ শেখের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। বিরোধীরা অনেক কথাই বলবে। পুলিসের তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ