সংবাদদাতা, লালবাগ: শহরের জনবহুল এলাকায় কীভাবে এবং কোন পথে ঢুকছে বারুদ, উঠছে প্রশ্ন। এদিকে বোমা বিস্ফোরণের দুই দিন পরেও রামকৃষ্ণপল্লির থমথমে ভাব কাটেনি। ওইদিনের ঘটনার পরেই ফরিদ শেখের বাড়ির গেটে পুলিস তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। মানুষের ভয় কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে বসেছে পুলিস পিকেট। তা সত্ত্বেও এলাকাবাসীরা আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। শনিবারও সন্ধ্যা হতেই রাস্তাঘাট শুনশান হয়ে যায়। দিনের আলো নিভে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা তাদের কাজকর্ম সেরে বাড়িতে ফিরে আসেন। রবিবার দুপুরে রামকৃষ্ণপল্লির ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল ফরিদ শেখের বাড়ির উল্টো দিকের বারান্দায় দুইজন পুলিস কর্মী বসে আছেন। রাস্তায় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দেখা মিললেও তারা বিস্ফোরণ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। এদিকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বোমা বিস্ফোরণে জখম ফরিদ শেখ। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিস সুপার (লালবাগ) রাসপ্রিত সিং বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি কাটাতে পুলিস পিকেটিং রয়েছে। কী উদ্দেশ্যে বোমা বাঁধা হচ্ছিল বা কেউ বরাত দিয়েছিল কিনা তা জানতে ফরিদ শেখের শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
Advertisement
মুর্শিদাবাদ পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণপল্লিতে হিন্দু মুসলিমের সহাবস্থান দেখা যায়। বেশিরভাগ পরিবারই নিম্নবিত্ত। বেশ কয়েক বছর আগে এহেন এলাকায় একটি বাড়ি কিনে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে বসবাস শুরু করে ফরিদ শেখ। মুর্শিদাবাদ থানার পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরিদ শেখের পৈতৃক বাড়ি কান্দি থানা এলাকায়। ওখানে প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে বহরমপুর থানার শিয়ালমারায় দ্বিতীয় বিয়ে করে। দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে রামকৃষ্ণপল্লির বাড়িতে থাকত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফরিদ শেখের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছোট ছেলে সৌদি আরবে কাজ করে। সেখান থেকে প্রতি মাসে টাকা পাঠানোয় ফরিদ শেখ বিশেষ কিছু করত না। দিনের বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকত। তবে সন্ধ্যার পর স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে তার নিয়মিত যাতাযাত ছিল। ফরিদ শেখের বাড়ির উল্টো দিকে পিচ রাস্তার ওপারে টোটোচালক বেলাল শেখের বাড়ি। বেলাল বলেন, খুব একটা বাড়ি থেকে বেরত না। তবে শীতের সময়ে কদাচিৎ গেটের সামনে চেয়ার নিয়ে বসে থাকতে দেখতাম। বাড়ির পাঁচিল অনেকটা উঁচু থাকায় ভিতরে কী হচ্ছে কেউ জানতে পারতাম না। অপর বাসিন্দা সুরঞ্জন পাল বলেন, এলাকার মধ্যে এমন একজন মারাত্মক মানুষ ছিল, তা বোমা বিস্ফোরণ না হলে জানতে পারতাম না। এখনও খুব ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি, এটাই ঈশ্বরের বড় আশীর্বাদ।



