Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাল্যবিবাহ রুখতে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের পথ নাটিকা

বাল্যবিবাহ রুখতে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের পথ নাটিকা
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বাল্য বিবাহ রুখতে পথ নাটিকার মাধ্যমে সমাজকে বার্তা দিয়ে স্টুডেন্ট উইক অবজার্ভেশন সমাপ্ত করল রঘুনাথগঞ্জ পূর্ব চক্র। বুধবার দুপুরে রঘুনাথগঞ্জের সাইদাপুরে সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প ও শিক্ষা দপ্তরের তরফে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ আখরুজ্জামান, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক স্বপ্নেন্দু বিশ্বাস, সিডিপিও সৌরভ কুমার, রঘুনাথগঞ্জ-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোমিনা খাতুন প্রমুখ। এদিন চক্রের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, আইসিডিএসের কর্মী ও ছাত্রছাত্রীরা বাল্য বিবাহ রোধে প্রচার করেন। মন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক জনমুখী প্রকল্পের ফলে বাল্য বিবাহ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। তবে সচেতনতার অভাবে এখনও বাল্য বিবাহ পুরোপুরো বন্ধ করা যায়নি। সকলে মিলে এই সামাজিক ব্যাধিকে নির্মূল করতে হবে।
Advertisement
গত বৃহস্পতিবার থেকেই নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে স্টুডেন্ট উইক অবজার্ভেশন পালন করে আসছে স্কুলগুলি। এদিন ছাত্রছাত্রীরা সপ্তাহের শেষ দিনে বাল্য বিবাহ রোধের প্রচারে পথে নামে। ‘বাল্য বিবাহ অভিশাপ’-স্লোগান প্ল্যাকার্ড হাতে শতাধিক পড়ুয়া এদিন পদযাত্রা করে। সাইদাপুরে সম্মতিনগর নিমতলা মোড়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারা ও ছাত্রীদের নিয়ে পথ নাটিকা করেন। ‘অভিশাপ’ নামক নাটিকা লেখেন ২৬নম্বর চাঁদপুর প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক কৃশানু দে। বাল্য বিবাহের কুফল এই নাটিকার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। তা দেখতে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান। পথ চলতি সাধারণ মানুষও থমকে দাঁড়ান। ১৭ নম্বর গিরিয়া প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা পিয়াসা দাস বলেন, আমরা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও সঙ্গীত, নৃত্য ও অভিনয়ের মাধ্যমে বাল্য বিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করে থাকি। 
স্বপ্নেন্দুবাবু বলেন, স্কুলের গণ্ডি পেরনোর আগেই অনেক নাবালিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। যদিও সেই সংখ্যাটা আগের থেকে অনেক কমেছে। তবুও মানুষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সৌরভবাবু বলেন, নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হলে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগতে হয়। এই ব্যাধি বন্ধ না হলে আমাদের সুস্থ সমাজ গড়ে উঠবে না। রঘুনাথগঞ্জ-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলেন, আমি মহিলা হয়ে উপলব্ধি করছি বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য একটি অভিশাপ। সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে এবিষয়ে সচেতন হতে হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ