সংবাদদাতা, সিউড়ি: বাল্যবিবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে কোমর বেঁধে নামতে চলেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। কয়েকদিন আগে বাল্যবিবাহ নিয়ে বিভিন্ন জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে নবান্নে একটি বৈঠক করে রাজ্য প্রশাসন। তারপরেই জেলা প্রশাসনের এই চিন্তাভাবনা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূম সহ আরও চার-পাঁচটি জেলায় বাল্যবিবাহ সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। গত বছরের তুলনায় বীরভূম জেলায় বেড়েছে বাল্যবিবাহের সংখ্যা। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সচেতনতা প্রচারে ময়দানে নামছে জেলা প্রশাসন। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বিয়ের আয়োজকদের বিরুদ্ধে।
Advertisement
অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) বিশ্বজিৎ মোদক বলেন, বীরভূমে বাল্যবিবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ করা হবে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন করা হবে বাল্যবিবাহের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গতবছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বীরভূমে মোট ১৪৭টি বাল্যবিবাহ হয়েছিল। কিন্তু চলতি আর্থিক বছরে নভেম্বর মাস অবধি সেই সংখ্যা ১৭৮। চলতি অর্থবর্ষ শেষ হতে এখনও চার মাস বাকি। যে হারে এবছর বাল্যবিবাহ হয়েছে সেই হার বজায় থাকলে আগামী চার মাসে এই সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, বাল্যবিবাহের কারণে নানা ক্ষতি হচ্ছে নাবালিকাদের। ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বিয়ে হলে অপুষ্ট শিশুর জন্ম দিচ্ছে মায়েরা। তাতে মা ও শিশু উভয়েরই স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া সামাজিক নানা ক্ষতিও হচ্ছে। বাল্যবিবাহ রোধে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কন্যাশ্রী ও রূপশ্রী প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। এই প্রকল্পগুলির সফল রূপায়ণও হয়েছে। কিন্তু তারপরও বাড়ছে বাল্যবিবাহের সংখ্যা। জেলা প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানাচ্ছিলেন, প্রশাসনিক রিপোর্ট অনুযায়ী বাল্যবিবাহের সংখ্যা ১৭৮টি ঠিকই। কিন্তু আসল সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি হওয়া স্বাভাবিক। যা এই জেলায় বাল্যবিবাহ নিয়ন্ত্রণে জেলা শিশু সুরক্ষা দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেবে। বাল্যবিবাহের সংখ্যা কমাতে রাজ্যের নির্দেশে ব্যাপক সতকর্তামূলক প্রচার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কোমর বেঁধে নামছে জেলা প্রশাসন। বাল্যবিবাহ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ক্লাব, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করতে চলেছে প্রশাসন।



