সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: মোবাইল থেকে ১০৯৮ নম্বরে ফোন। হ্যালো…‘চাইল্ড হেল্প লাইন?’
Advertisement
—হ্যাঁ, বলুন।
করুণভাবে বলতে শুরু করলেন যুবক—এক নাবালিকাকে জোর করে বিয়ে দিয়েছেন তার বাড়ির লোকজন। সে অকথ্য নির্যাতনের শিকার। নিত্যদিন মারধর করা হচ্ছে। দয়াকরে আপনারা তাকে উদ্ধার করুন।
—আপনি ওই নাবালিকার কে হন?
যুবকের এবার লাজুক জবাব—আমি ওর প্রেমিক।
চাইল্ড হেল্প লাইন নম্বরের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রূপকথা চাকি রক্ষিত ধমকের সুরেই জানতে চাইলেন, ‘প্রেমিকার বিয়ে হওয়ার আগে জানাতে পারলেন না? কেমন প্রেমিক আপনি!’
দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা কেটেই দিলেন ওই যুবক। আফসোস করলেন হয়তো। সত্যিই তো আগে জানালে মনের মানুষের বিয়েটা অন্তত আটকানো যেত! ঠিক যেভাবে আটকে দিচ্ছেন অন্য আর পাঁচজন। নাবালিকা প্রেমিকার বিয়ে। তোড়জোড় চলছে জোরকদমে। প্রেমিক কী করবে ভেবে কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। অগত্যা ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে আবদার—বিয়েটা আটকান। তৎপর হয়ে ওঠে চাইল্ড হেল্প লাইনের কর্মকর্তারা। পুলিস-প্রশাসনকে নিয়ে নাবালিকার দুয়ারে হাজির। নরমে-গরমে বাড়ির লোককে বোঝানো। বিয়ে বন্ধ। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন প্রেমিক। নিস্তার পান প্রেমিকাও। বাড়ির লোক বুঝতেও পারলেন না কোথা থেকে কী হয়ে গেল!
আবার উল্টো ঘটনাও ঘটছে। ধরা যাক, কোনও নাবালিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেম করছেন এক যুবক। তাকে ধোঁকা দিয়ে ওই যুবক কোনও নাবালিকাকে বিয়ে করতে চলেছেন। হাত গুটিয়ে বসে না থেকে হেল্প লাইনে ফোন। অনেকক্ষেত্রে পাত্র ২১ বছরের আগে বিয়ে পিঁড়িতে বসতে গেলে বান্ধবীই খবর পৌঁছে দিচ্ছে ওই নম্বরে।
অতঃপর, বাল্য বিবাহ রুখতে ১০৯৮ দারুণ এক টোটকা—মানছেন শিশু সুরক্ষা দপ্তরের কর্তারা। প্রমিক-প্রেমিকাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে এভাবে বহু নাবালিকার বিয়ে ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি স্বনির্ভর দলের মেয়েরাও এখন ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিটের (ডিসিপিইউ) ভালো সোর্স। যার জেরে শেষ তিন মাসে ন’জন নাবালিকার বিয়ে এই দুই সোর্সের খবরে আটকানো সম্ভব হয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, ‘নাবালিকা স্ত্রী গর্ভবতী হলে স্বামীর ২০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। এনিয়ে সচেতন হতে হবে। সম্প্রতি অনেকগুলি নাবালিকা ও কম বয়সী ছেলের বিয়ে আটকাতে সফল হয়েছি।’
শুক্র, শনি ও রবিবার—এই তিনদিন ঘটা করে গণবিহারের আসর বসেছিল আসানসোলে। ১০৮টি বিয়ে। ৪ হাজার টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করালে ২ লক্ষ টাকার সামগ্রী। সঙ্গে অযোধ্যা পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমার প্যাকেজ। স্বভাবতই বিয়ে করতে উৎসাহী অনেক যুবক। ডিসিপিইউ ‘বিশেষ সোর্সে’র মাধ্যমে খবর পেয়ে যায়, ২১ বছরের কম ছেলেরাও লোভে পড়ে বিয়ে করবে এই আসরে। ধরতে জাল পাতে প্রশাসন। বরের পোশাকে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় দুই কিশোর। ১০৯৮ নম্বরে খবর পেয়ে মা কল্যাণেশ্বরী মন্দিরেও এক নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করা হয়। ডিসিপিইউয়ের প্রটেকশন অফিসার রাজকুমার মিশ্র বলেন, ‘আমরা স্বনির্ভর দলের মেয়েদের সতর্ক করেছি। তাঁরাও তথ্য দিচ্ছেন। এছাড়া প্রেমিক, প্রেমিকা থেকে কন্যাশ্রী ক্লাবের মেয়েরাও খবর দেয় নিয়মিত। তাতেই সাফল্য মিলছে।’
করুণভাবে বলতে শুরু করলেন যুবক—এক নাবালিকাকে জোর করে বিয়ে দিয়েছেন তার বাড়ির লোকজন। সে অকথ্য নির্যাতনের শিকার। নিত্যদিন মারধর করা হচ্ছে। দয়াকরে আপনারা তাকে উদ্ধার করুন।
—আপনি ওই নাবালিকার কে হন?
যুবকের এবার লাজুক জবাব—আমি ওর প্রেমিক।
চাইল্ড হেল্প লাইন নম্বরের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রূপকথা চাকি রক্ষিত ধমকের সুরেই জানতে চাইলেন, ‘প্রেমিকার বিয়ে হওয়ার আগে জানাতে পারলেন না? কেমন প্রেমিক আপনি!’
দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা কেটেই দিলেন ওই যুবক। আফসোস করলেন হয়তো। সত্যিই তো আগে জানালে মনের মানুষের বিয়েটা অন্তত আটকানো যেত! ঠিক যেভাবে আটকে দিচ্ছেন অন্য আর পাঁচজন। নাবালিকা প্রেমিকার বিয়ে। তোড়জোড় চলছে জোরকদমে। প্রেমিক কী করবে ভেবে কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। অগত্যা ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে আবদার—বিয়েটা আটকান। তৎপর হয়ে ওঠে চাইল্ড হেল্প লাইনের কর্মকর্তারা। পুলিস-প্রশাসনকে নিয়ে নাবালিকার দুয়ারে হাজির। নরমে-গরমে বাড়ির লোককে বোঝানো। বিয়ে বন্ধ। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন প্রেমিক। নিস্তার পান প্রেমিকাও। বাড়ির লোক বুঝতেও পারলেন না কোথা থেকে কী হয়ে গেল!
আবার উল্টো ঘটনাও ঘটছে। ধরা যাক, কোনও নাবালিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেম করছেন এক যুবক। তাকে ধোঁকা দিয়ে ওই যুবক কোনও নাবালিকাকে বিয়ে করতে চলেছেন। হাত গুটিয়ে বসে না থেকে হেল্প লাইনে ফোন। অনেকক্ষেত্রে পাত্র ২১ বছরের আগে বিয়ে পিঁড়িতে বসতে গেলে বান্ধবীই খবর পৌঁছে দিচ্ছে ওই নম্বরে।
অতঃপর, বাল্য বিবাহ রুখতে ১০৯৮ দারুণ এক টোটকা—মানছেন শিশু সুরক্ষা দপ্তরের কর্তারা। প্রমিক-প্রেমিকাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে এভাবে বহু নাবালিকার বিয়ে ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি স্বনির্ভর দলের মেয়েরাও এখন ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিটের (ডিসিপিইউ) ভালো সোর্স। যার জেরে শেষ তিন মাসে ন’জন নাবালিকার বিয়ে এই দুই সোর্সের খবরে আটকানো সম্ভব হয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, ‘নাবালিকা স্ত্রী গর্ভবতী হলে স্বামীর ২০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। এনিয়ে সচেতন হতে হবে। সম্প্রতি অনেকগুলি নাবালিকা ও কম বয়সী ছেলের বিয়ে আটকাতে সফল হয়েছি।’
শুক্র, শনি ও রবিবার—এই তিনদিন ঘটা করে গণবিহারের আসর বসেছিল আসানসোলে। ১০৮টি বিয়ে। ৪ হাজার টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করালে ২ লক্ষ টাকার সামগ্রী। সঙ্গে অযোধ্যা পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমার প্যাকেজ। স্বভাবতই বিয়ে করতে উৎসাহী অনেক যুবক। ডিসিপিইউ ‘বিশেষ সোর্সে’র মাধ্যমে খবর পেয়ে যায়, ২১ বছরের কম ছেলেরাও লোভে পড়ে বিয়ে করবে এই আসরে। ধরতে জাল পাতে প্রশাসন। বরের পোশাকে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় দুই কিশোর। ১০৯৮ নম্বরে খবর পেয়ে মা কল্যাণেশ্বরী মন্দিরেও এক নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করা হয়। ডিসিপিইউয়ের প্রটেকশন অফিসার রাজকুমার মিশ্র বলেন, ‘আমরা স্বনির্ভর দলের মেয়েদের সতর্ক করেছি। তাঁরাও তথ্য দিচ্ছেন। এছাড়া প্রেমিক, প্রেমিকা থেকে কন্যাশ্রী ক্লাবের মেয়েরাও খবর দেয় নিয়মিত। তাতেই সাফল্য মিলছে।’



