নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মেসি আর মাঠে নামবেন না। সোমবার লায়োনেল মেসির অবসরের সঙ্গে শেষ হল ফুটবলের এক বর্ণময় অধ্যায়ের। কিন্তু অবসর নিলেই তো আর তাঁর দেখানো জাদু হারিয়ে যায় না। সে ম্যাজিক ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে আজন্ম থেকে যাবে। যেমন বারাসতের নওপাড়ার একটি ছোট্ট ঘরে মেসির স্মৃতি জ্বলজ্বল করছে। তাঁর স্মৃতি, সাফল্যের স্মারক, ফুটবল জীবনের নানা মুহূর্ত যত্ন করে রেখে দিয়েছেন মেসি ভক্ত সন্দীপ মিত্র। ছ’ফুট বাই পাঁচ ফুটের ঘরের দরজা খুললেই চারপাশজুড়ে নীল-সাদা। আর্জেন্টিনার রং, মেসির ছবি, গোল, পুরস্কার আর সাফল্যের স্মৃতি ভেসে রয়েছে ঘরে। সন্দীপ এটির নাম রেখেছেন, ‘আর একটু মেসি হলে ক্ষতি কি’।
বারাসতের নওপাড়ার বাসিন্দা সন্দীপ মিত্র ব্যবসায়ী। ছোটবেলা থেকে ফুটবল তাঁর প্রিয় বিষয়। প্রিয় তারকা মেসির খেলা দেখতেন রাত জেগে। বিদেশে গিয়ে তাঁর খেলা দেখার সুযোগ হয়নি। তবে ২০১১ সালের ২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় মেসির খেলা দেখেছিলেন। সম্প্রতি সল্টলেক স্টেডিয়ামেও গিয়েছিলেন মেসিকে দেখতে। তবে অব্যবস্থার কারণে মেসিকে দেখতে পাননি। এবার নিজের বাড়িতেই মেসির স্মৃতি দিয়ে ঘেরা একটি সংগ্রহশালা গড়ে তুললেন তিনি। সেই সংগ্রহে আছে ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির প্রথম ম্যাচের ছবি। দেশের হয়ে মাঠে নামার ৪৮ সেকেন্ডের মধ্যে লাল কার্ড দেখার বিরল মুহূর্ত। বার্সেলোনার হয়ে হেডে গোল। ১৭ বছর বয়সে বাইসাইকেল কিকে গোল। ডিসপ্লে বোর্ডে মেসির আটটি ব্যালন ডি’অর। ২০১০ সালে উয়েফার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টসম্যান সম্মান ইত্যাদি ছবি। এবং কাতার বিশ্বকাপের কয়েনের রেপ্লিকা এবং ২০১১ সালে কলকাতায় মেসির খেলার টিকিট। মেসির শেষ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে টানা ৩৯ দিন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও ছবি কেটে ১০০ পাতার ‘মেসি কোলাজ’ বানিয়েছিলেন সন্দীপ। ১৭ জুন থেকে নিজের খরচে তৈরি করেছেন এই প্যাভিলিয়ন। প্রতিদিন সকালে চায়ের কাপ হাতে সেখানে বসেন। রাতে ব্যবসা শেষে মেয়েকে নিয়ে ফের কিছু সময় কাটান। সন্দীপের কথায়, ‘মেসির খেলা শুরুর থেকেই তাঁর প্রতি অনুরাগ ও আবেগ। সময়ের সঙ্গে সেই আবেগ আরও বেড়েছে। আমার কাছে এই সংগ্রহ শুধু স্মারক নয়, কিংবদন্তির ফুটবল-জীবনকে নতুন প্রজন্মের জন্য ধরে রাখার চেষ্টা।’ নিজস্ব চিত্র