Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত মহুয়া ধার মেটাতে টার্গেট করে মেসোকে

বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত মহুয়া ধার মেটাতে টার্গেট করে মেসোকে
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে মোটা অঙ্কের টাকা ধার করেছিল মহুয়া। স্বামী সরকারি চাকরি করেন। সেই টাকাতেও তার চাহিদা মিটত না। পরিচিতদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা ধার রয়েছে তার। বৃদ্ধ দম্পতির খুনের তদন্তে নেমে পুলিস এমনটাই জানতে পেরেছে। দামি জিনিসপত্র কেনা তার শখ ছিল। এছাড়া সে নেশাতেও আসক্ত ছিল। ভাতার থানা এলাকায় একটি হোটেল সে লিজে নিয়েছিল। সেখানে নিজের মতো করে জীবনযাপন করত। আর টাকার টান পড়লেই ভাতারে মেসো-মাসির বাড়িতে হাজির হতো। কখনও ২০ আবার কখনও ৩০ হাজার টাকা নিয়ে সে বাড়ি ফিরত। মাঝে একবার টাকা না দেওয়ায় সে মাসিকে ঠেলে দেয়। পরে গিয়ে তাঁর চোট লাগে। মেসো তাকে সেদিন বকাঝকা করে বাড়ি পঠিয়ে দেয়। কিন্তু তারপরও সে টাকা দাবি করত। ভাতারের বয়স্ক দম্পতি খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে জেরা করে পুলিস এমনই তথ্য জানতে পেরেছে। 
Advertisement
পুলিস আরও জানতে পেরেছে, মহুয়া বেশিরভাগ সময়ই তার দুই ছেলেকে নিয়ে তাদের বাড়িতে যেত। দুই ছেলের পড়াশোনার খরচের নাম করে সে টাকা চাইত। আদায়ের পর কিছু টাকা মহুয়া তার বড় ছেলে অরিত্র সামন্তকে দিত। ভাতারের রবীন্দ্রপল্লিতে অভিজিৎ যশ এবং ছবিরানি যশকে খুনে তার বড় ভূমিকা রয়েছে। অভিজিৎবাবুকে মহুয়া ঘরে ঢুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর সে তার মুখ চেপে ধরে খুন করে। সেই সময় তার বড় ছেলে তাঁর দুই পা চেপে ধরে। খুন করার পর সে তার মায়ের সঙ্গে আলমারি থেকে সবকিছু বের করে। আলমারির চাবি সে-ই খুলেছিল।
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, খুন করার পরও মহুয়া এবং তার বড় ছেলের মধ্যে কোনও অস্বভাবিকতা দেখা যায়নি। শনিবার তারা খুন করে বর্ধমানে নিজেদের আবাসনে ফিরে আসে। তার মাঝেই তাদের সঙ্গে এক আত্মীয় যোগাযোগ করেন। অভিজিৎবাবুরা কেমন আছেন তার কাছে থেকে জানতে চান। কিন্তু সে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যায়। ওই আত্মীয় ফের তাকে বলে, কয়েক দিন ধরে অভিজিৎবাবুকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। তাতেও তার কোনও হেলদোল নেই। মৃতদেহ উদ্ধারের পর অন্যান্য আত্মীয়রা তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে গেলেও মহুয়ারা যায়নি। সেই সময় ফের ওই আত্মীয় তাকে ফোনে বলেন, ‘তুই মাসিকে একবার মারধর করেছিলি। সেটা পুলিসকে বলে দেব’। এরপর সে জানায় পুলিস ডাকলে থানায় যাব। তাদেরকে অবশ্য থানায় যেতে হয়নি। তার আগই পুলিস তাদের বাড়িতে পৌঁছে যায়। কিছুক্ষণ জেরা করার পরই কে খুনি তা নিয়ে আধিকারিকরা নিশ্চিত হয়ে যান। এর মধ্যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিসের কাছে চলে আসে। তাতে দেখা যায় শনিবার মহুয়া এবং তার দুই ছেলে ঘটনার দিন ভাতারে ছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ