Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সন্ধ্যা নামতেই সক্রিয় বিএলআরও অফিস, তুমুল বিক্ষোভ ল’ক্লার্কদের

অফিসটাইমে হত্যে দিয়ে পড়ে থেকেও কাজ হয় না। সাধারণ কোনও কাজের জন্য বিএলএলআরও (ব্লক ল্যান্ড অ্যান্ড ল্যান্ড রেভিনিউ অফিসার)

সন্ধ্যা নামতেই সক্রিয় বিএলআরও অফিস, তুমুল বিক্ষোভ ল’ক্লার্কদের
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অফিসটাইমে হত্যে দিয়ে পড়ে থেকেও কাজ হয় না। সাধারণ কোনও কাজের জন্য বিএলএলআরও (ব্লক ল্যান্ড অ্যান্ড ল্যান্ড রেভিনিউ অফিসার) অফিসে ছুটে ছুটে হয়রান হতে হয় সাধারণ মানুষকে। অথচ, সন্ধ্যা নামলে সেই অফিসই হয়ে ওঠে কর্মচঞ্চল! অভিযোগ, সন্ধ্যার পর অফিসে আসেন ‘এজেন্ট’রা। মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে চটজলদি সেরে নেন ‘কাজ’। বারাসত ১ ব্লকের ভূমিদপ্তরের অফিস নিয়ে এমন সব অভিযোগ উঠতে শুরু করার পর সোমবার সেখানে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন পশ্চিমবঙ্গ ল’ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। বিএলএলআরও অফিসের এই ‘অনাচার’ নিয়ে বারবার প্রতিবাদ করেও অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় এই বিক্ষোভ বলে জানিয়েছেন তাঁরা। বর্তমান বিএলএলআরও-কে বহিষ্কারের দাবিও ওঠে সেখানে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় ওই সরকারি অফিস চত্বরে। পরে পুলিস এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার সরকারি অফিসে ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙার কথা বলছেন। এক্ষেত্রে বিশেষ করে ভূমি ও পরিবহণ দপ্তরের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। ক’দিন আগে বারাসত ১-এর বিএলএলআরও দপ্তরে রাতারাতি জমির মালিকানা বদলের মতো ঘটনা সামনে আসায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। বারাসত পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুহ পরিবার ওই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ভূমিদপ্তরের কাজকর্ম নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও পুঞ্জীভূত হচ্ছে। সোমবার দুপুরের বিক্ষোভে সেই আঁচও পাওয়া গেল। ল’ক্লার্কদের বিক্ষোভে শামিল হতে দেখা গেল অনেক সাধারণ মানুষকেও। বিক্ষোভ চলাকালীন এখানকার একটি অস্থায়ী অফিসে ঢুকে জিনিসপত্র সরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। সেই সঙ্গে বিএলএলআরও-কে ঘিরে দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে। ল’ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক পবিত্রকুমার দাস বলেন, ‘ঘুঘুর বাসা তৈরি হয়েছে বিএলএলআরও অফিসে। সন্ধ্যার পর এজেন্টরা নোট নিয়ে আসছেন। তাদের অফিসার ধরা রয়েছে। দ্রুত হয়ে যাচ্ছে যাবতীয় অবৈধ কাজকে বৈধকরণের প্রক্রিয়া। আর সাধারণ মানুষ কোনও কাজে এলে বিভিন্ন অজুহাতে দেরি করানো হচ্ছে।’ জহর আলি নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘বর্তমান বিএলএলআরও’র অপদার্থতার কারণেই এজেন্টদের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী বারবার সতর্ক করলেও কথা শুনছে না কেউ। আমরা এর বিহিত চাই।’ বারাসত ১-এর বিএলএলআরও অভিজিৎ নিয়োগীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি  বলেন, ‘ওঁদের অভিযোগ নিয়ে আমি কোনও মন্তব্যই করব না। জেলার আধিকারিকরা যা বলার বলবেন। আমার কাছে সময় নিয়ে লিখিত আকারে অভিযোগ দিতে বলেছি ওঁদের।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ