সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: প্রায় ১০বছর পরও নিজেদের পাট্টা পাওয়া ১০ ডেসিমেল করে জমির হদিস পেলেন না বলরামপুরের কলাবেড়া গ্রামের পাহাড়িয়া সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। তাঁদের বনদপ্তরের পাট্টা পাওয়া জমি শুধু খাতায়-কলমেই রয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করেও সুরাহা হয়নি। আদৌ ওই জমি পাবেন কিনা-তা নিয়ে পাহাড়িয়া সম্প্রদায়ের মানুষ চিন্তিত। বলরামপুর ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, কলাবেড়া গ্রামের ওই বাসিন্দারা পাহাড়ের উপর থাকতেন। ২০১৩-’১৪ সাল নাগাদ তাঁদের বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা দিতে পাহাড়তলিতে প্রতিটি পরিবারকে নতুন ঘর বানিয়ে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে ৩২টি পরিবারকেই ১০ ডেসিমেল করে জমির পাট্টা দেওয়া হয়। সেই কাগজে খোদ জেলাশাসক, বনদপ্তরের ডিএফও সহ অন্য আধিকারিকদের স্বাক্ষর রয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে ওই কাগজ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিসে যোগাযোগ করলেও পাহাড়িয়াদের পাট্টা পাওয়া জায়গাটি ঠিক কোথায়-তা এখনও প্রশাসনিক আধিকারিকরা চিহ্নিত করে দেননি। ওই গ্রামের এক বাসিন্দা আনন্দ পাহাড়িয়া বলেন, পাহাড়তলিতে ছোট্ট একটি রুম ছাড়া আমাদের কিছু নেই। সরকার ঘর তৈরি করে দিয়েছে তা ঠিক। কিন্তু ঘর থেকে বেরোলেই কোনওদিকে পা ফেলার মতো নিজেদের জায়গা নেই। সরকার প্রত্যেক পরিবারকে ১০ ডেসিমেল করে জমির পাট্টা দিয়েছে। সেই কাগজ বাড়িতে ভালো করে রেখেছি। কিন্তু ওই জমি কোথায় আছে, এখনও জানতে পারলাম না। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়েছি। কিন্তু কেউ পাত্তাই দিতে চান না। ওই গ্রামের বাসিন্দা পুইতু পাহাড়িয়া বলেন, পাহাড়ের উপর থেকে নামানোর সময় সরকার ঘর করে দিয়েছে। সেইসঙ্গে প্রাথমিকভাবে প্রত্যেককে ১০ ডেসিমেল করে জায়গার কাগজ দিয়েছিল। কিন্তু ওই জায়গা কাগজে-কলমেই থেকে গিয়েছে। কলাবেড়া গ্রামের কেউ এখনও অবধি ওই জায়গার হদিস পাননি। ওই জায়গা ছাড়াও এক একর চাষের জমি দেওয়ার কথা ছিল। সেটাও সরকারি আধিকারিকরা বেমালুম ভুলে গিয়েছেন। গ্রামের কারও এমন সামর্থ্য নেই যে, জমি কিনে চাষবাস করতে পারবেন। জঙ্গল থেকে শুকনো কাঠ এনে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করা ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় নেই। সামান্য জমি থাকলে তাতে ধান সহ বিভিন্ন সব্জি চাষ করা যেত। এছাড়া, পানীয় ও স্নানের জলের অভাব আছে। একটু দূরে পুকুর থাকলেও সেখানে আমাদের কাউকে স্নান করতে দেওয়া হয় না। স্নান করলে নাকি ওই পুকুরের মাছ নষ্ট হয়ে যাবে।



