Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালুরঘাট হাসপাতাল চত্বরে মৌমাছির আক্রমণে জখম তিন

বালুরঘাট হাসপাতাল চত্বরে মৌমাছির আক্রমণে জখম তিন
  • ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিংয়েই মৌমাছির বড় বড় চাক। ১০ তলা বিল্ডিংয়ে বাজপাখির আক্রমণে ক্ষিপ্ত মৌমাছির দল। ফলে এক ঝাঁক মৌমাছি হামলা করল রোগীর আত্মীয় পরিজনদের। শুক্রবার মৌমাছির আক্রমণে হইচই বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিংয়ের সামনে। এদিকে মৌমাছির আক্রমণে বেশিরভাগ পালিয়ে গেলেও কয়েকজন জখম হন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। আরও দু’জন মৌমাছির আক্রমণে কাহিল। বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। তবে আপাতত তিন জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অল্পের জন্য রোগীরা বেঁচে গিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, হাসপাতালে মৌমাছির চাক থাকা সত্ত্বেও কেন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ? 
Advertisement
বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বাগ বলেন, একবারে বিল্ডিংয়ের উঁচুতে মৌমাছি চাক করেছে। এর আগেও তা দেখতে পেয়েই আমরা ভেঙে দিয়েছিলাম। এবার এমন জায়গায় করেছে, তা ভাঙা একটু মুশকিল ছিল। এরমধ্যেই বাজপাখির কারণে মৌমাছিগুলি বিক্ষিপ্ত হয়ে গিয়ে কয়েকজনকে আক্রমণ করে। হাসপাতালের তরফে জখমদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মৌচাক ভাঙার ব্যবস্থা করা হবে। 
এবিষয়ে হাসপাতালে আসা এক রোগীর আত্মীয় শাহ আলম মিয়াঁ বলেন, আমি এসেই দেখলাম মৌমাছির আক্রমণ। সঙ্গে সঙ্গে দূরে পালিয়ে যাই। মৌমাছি দু’জনকে কামড় দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছে। দু’জনই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে এক কর্মী পিপিই কিট পরে তাদের দু’জনকে উদ্ধার করে। মাটিতে পড়ে থাকা মৌচাকও তুলে অন্যত্র নিয়ে যায়। হাসপাতলে মৌমাছির চাক নিয়ে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। 
হাসপাতাল সূত্রে খবর, দুপুর বেলা রোগী দেখার সময়। রোগী দেখেই পরিবার-পরিজনরা সুপার স্পেশালিটি ভবন ছেড়ে বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। কেউবা সামনেই রোগীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন ব্যস্ততম দুপুরবেলায় হঠাৎ হাসপাতালের পাঁচ তলা ভবনের ওই মৌচাকের উপর আক্রমণ করে বাজপাখি। সেই আক্রমণের জেরে মৌমাছির চাক নীচে পড়ে যায়। সেখান থেকেই মৌমাছি আক্রমণ করে সাধারণ রোগীর আত্মীয় পরিজনদের। এমন আক্রমণ দেখতেই হাসপাতালে লেকজনের ছোটাছুটি লেগে যায়। বেশিরভাগ পালিয়ে গেলেও ছয়-সাত জন আক্রমণের শিকার হন। দু’জন মৌমাছির আক্রমণে মাটিতে পড়ে গিয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে যান। এমতাবস্থায়  নিমেষের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যায় হাসপাতাল চত্বর। অবশেষে হাসপাতালেরই কর্মীরা পিপিই কিট পরে ওই দু’জনকে উদ্ধার করে ইমারজেন্সিতে পাঠান। বর্তমানে ভর্তি থাকা তিন জনের অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ