সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাটের আত্রেয়ী খাঁড়ির বাঁধের কাজ শুরু হল। বালুরঘাট শহরের একে গোপালন কলোনিতে শনিবার ওই খাঁড়ির বাঁধের কাজের শিলান্যাস করলেন রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র। ওই কাজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা। শুধু বাঁধের কাজই নয়, আগামীতে ওই বাঁধ দিয়েই শহরের বিকল্প রাস্তা তৈরি হবে বলে জানা গিয়েছে। এমনকী আত্রেয়ী খাঁড়িতে বড় প্রজেক্ট করে সৌন্দর্যায়ন করা হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে বালুরঘাট শহরের মধ্যদিয়ে বয়ে চলা আত্রেয়ী খাঁড়িতে দখলের নানা অভিযোগ রয়েছে। বাঁধের কাজের ফলে আর দখল হবে না এবং দখল নিয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন মন্ত্রী। শনিবার শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের একে গোপালন কলোনি এলাকায় ওই শিলান্যাস অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মন্ত্রী ছাড়াও জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, সেচদপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অঙ্কুর মিশ্র, পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র, এমসিআইসি তথা ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিপুলকান্তি ঘোষ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। ওই কাজ উদ্বোধন করে মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, এই এলাকায় ঘুরে মানুষের দুর্দশা দেখেছিলাম। আমাকে তারা এই বাঁধের কথা জানিয়েছিলেন। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। বিশ্বাস রাখতে বলেছিলাম। পরবর্তীতে পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কাজের প্রস্তুতি শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী কাছে অভাব বলেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। পরে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার মাধ্যমে এই কাজের অগ্রগতি হয়। এই কাজ হলে ১০০ বছরের এই সমস্যা দূর হবে। আগামীতে সৌন্দর্যায়নের মাধ্যমে বড় প্রজেক্ট করতে চাইছি। ১১ নম্বর ওয়ার্ডকে সামনে রেখেই গোটা বালুরঘাটের চেহারা বদলে যাবে।
Advertisement
পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র বলেন, আমরা এই বাঁধের উপর দিয়েই বিকল্প রাস্তার ভাবনা নিয়েছি। পুরসভার উদ্যোগে এবং সেচদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এই কাজ হচ্ছে। স্থানীয়রা খুবই খুশি। জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, আমরা এই বাঁধের কাজ নিয়ে একাধিকবার মিটিং করেছি। এদিন সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের আনন্দের দিন। এই বাঁধ হলে ভাঙনের সমস্যা দূর হবে। স্থানীয় বাসিন্দা রাধিকা দাস ও কল্পনা সরকাররা বলেন, ‘আমরা বন্যার সময় ভয়ে থাকতাম। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছিলাম। এদিন কাজ শুরু হচ্ছে। খুব ভালো লাগছে।’ সেচদপ্তর জানিয়েছে, বালুরঘাট শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডেই মূলত ওই কাজ হবে। দিশারী ক্লাব থেকে মোটর কালী ব্রিজ পর্যন্ত ৫৫০ মিটার এই গার্ডওয়াল দেওয়া হবে। বিগত দিনে অনেক বাড়িঘর এই খাঁড়ির ভিতরে তলিয়ে গিয়েছে। এবারে ওই খাঁড়ির পাড় বাঁধাই হলে আর বাড়িঘর ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে না। ফলে দীর্ঘদিনের সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন স্থানীয়রা।



