Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালির গাড়ি থেকে দেদার তোলাবাজি পূর্বস্থলী থানার আইসির গাড়িচালক ধৃত

বালির গাড়ি থেকে দেদার তোলাবাজি পূর্বস্থলী থানার আইসির গাড়িচালক ধৃত
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: বালির গাড়ি চালাতে গেলে ‘রেজিস্ট্রেশন’ করাতে হতো। তারজন্য দিতে হতো ‘প্রণামী’। প্রণামীর টাকা জমা করলে গাড়ি চলতে দেওয়া হতো। লরি ও ট্রাক থেকে মোটা টাকা ‘প্রণামী’ নেওয়ার অভিযোগ উঠছিল পূর্বস্থলী থানার আইসির গাড়িচালকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় থানার আইসিকে সঙ্গে নিয়ে কালেখাঁতলায় একটি হোটেলে হানা দেন। খোদ আইসির গাড়ির চালককে পাকড়াও করা হয়। সন্ধ্যা নাগাদ তোলাবাজির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। আইসির নাম করে তোলাবাজির পর্দাফাঁস হওয়ায় পূর্বস্থলীজুড়ে শোরগোল পড়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম গোপাল দাস। বাড়ি উত্তর ২৪পরগনার বসিরহাট এলাকায়। কয়েক বছর ধরে সে পারুলিয়ায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকত। অতিরিক্ত পুলিস সুপার(গ্রামীণ) রাহুল পাণ্ডে বলেন, ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 
Advertisement
এদিন সকালে বিধায়ক থানার আইসিকে সঙ্গে নিয়ে এসটিকেকে রোডের ধারে কালেখাঁতলায় একটি হোটেলে হানা দেন। সেখানেই গোপালকে পাকড়াও করে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তপনবাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাত। বালির গাড়ি থেকে টাকা তুলত। আমি পুলিসকে ধরিয়ে দিতে সাহায্যে করেছি। গোপাল পুলিসের জালে উঠতেই এখন অনেকেই মুখ খুলছেন। 
গাড়ির চালক ও মালিকরা বলছেন, গোপাল থানার আইসির গাড়ি চালাত। সেই সুবাদে আইসির নাম করে বিভিন্ন বালির গাড়ি থেকে টাকা তুলত। তবে তার টাকা নেওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি ছিল। কাটোয়া থেকে পূর্বস্থলীর দিকে এসটিকেকে রোডের উপর বালির গাড়ি গেলেই গোপালকে আগেভাগে হোয়াটসঅ্যাপে নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করাতে হতো। তা না করলে মোটা অঙ্কের টাকা ফাইন দিতে হতো। সেই গাড়ির ভেরিফিকেশনের নাম করে ২৫হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা নিত। ‘প্রভাবশালী’ হওয়ায় সবাই তাকে সমঝে চলত। কেউ কিছু বলতে গেলেই তার কাছে শুনতে হতো, ‘আইসির ড্রাইভার’। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন গাড়ির আলাদা রেট ছিল। ছ’চাকা লরির চালককে দিতে হতো ১২০০-১৫০০টাকা। দশচাকা লরিকে ২০০০-৩০০০টাকা দিতে হতো। আগে থেকে গোপালের রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই কালেখাঁতলার ওই হোটেলে গিয়ে পয়সা দিয়ে আসতে হতো। ‘ডাকমাস্টার’ বা ‘ডাকবাবু’ বলে পরিচিত গোপাল সেসব মোবাইল খুলে মিলিয়ে নিত। অনেকেই বলছেন, গোপাল একা নয়, তোলাবাজি চালানোর জন্য পুরো গ্যাং তৈরি করেছিল। তারা বাইক নিয়ে ছাতনি থেকে কালেখাঁতলা পর্যন্ত ঘুরে বেড়াত। কোনও গাড়ি টাকা না দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে কি না নজরদারি চালাত।
গাড়ির চালক লালবাবু মল্লিক, দীপঙ্কর মাহাত বলেন, রেজিস্ট্রেশন না করিয়ে কেউ বালির গাড়ি কালেখাঁতলা দিয়ে নিয়ে যেতে পারত না। আমরা তাকে আইসির গাড়ির ড্রাইভার বলেই চিনতাম। ওই হোটেলেই গোপাল তোলাবাজির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। বেনামে একাধিক ডাম্পার কিনেছিল। পূর্বস্থলী থানার আইসি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি থানায় নতুন এসেছি। আগে থেকেই গোপাল গাড়ি চালাত। পাবলিক ড্রাইভার হিসে঩বেই ও কাজ করত। তোলাবাজি চালাত বলে আগে কেউ অভিযোগ করেননি।
সম্পর্কিত সংবাদ