Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার বাড়ি: স্বচ্ছতার লক্ষ্যে সেলফ ভেরিফিকেশন

বাংলার বাড়ি: স্বচ্ছতার লক্ষ্যে সেলফ ভেরিফিকেশন
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে টাকা দেওয়া নিয়ে স্বচ্ছতাই লক্ষ্য রাজ্য সরকারের। টাকা নিয়ে যাতে আগামী দিনে কোনও বিভ্রান্তি তৈরি না হয়-সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে। সেজন্য এবার উপভোক্তাদের অনলাইনে সেলফ ভেরিফিকেশন করতে হবে। যাতে সরকারের কাছে সেই উপভোক্তার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা থাকে। সেইসঙ্গে উপভোক্তারা সেই টাকায় আদৌ ঘর তৈরি করছেন কিনা-সেবিষয়ে নজর রাখা যাবে।
Advertisement
সম্প্রতি প্রথম দফায় যাঁরা ‘বাংলার বাড়ি’র টাকা পেয়েছেন, তাঁরা সেলফ ভেরিফিকেশন করছেন। নদীয়া জেলায় প্রাথমিকভাবে ৪৬হাজার উপভোক্তা ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। রাজ্য সরকারের তরফে এই ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।এজন্য প্রশাসনের তরফে উপভোক্তার মোবাইল নম্বরে একটি মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। সেই মেসেজে উপভোক্তার নামেই একটি লিঙ্ক থাকছে। সেই লিঙ্ক ওপেন করার পর মোবাইল নম্বর ও ওটিপি দিলেই উপভোক্তার সমস্ত তথ্য দেখা যাবে। তাতে উপভোক্তার ফোন নম্বর, ছবি, ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর, প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ-সমস্ত কিছুই দেখা যাবে। সেইসঙ্গে বেশ কিছু সতর্কতামূলক ভিডিও আসবে। প্রথম ভিডিওতে দেখা যাবে, এক উপভোক্তা বলছেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে ৬০ হাজার টাকা ঢুকেছে। সেই টাকা দিয়ে তিনি ঘর বানাবেন। দ্বিতীয় ভিডিওতে এক উপভোক্তা বলছেন,‌ এই ঘরের টাকা পাওয়ার জন্য তিনি তৃতীয় কোনও ব্যক্তিকে টাকা দেবেন না। এসমস্ত ভিডিওর মাধ্যমে রাজ্য সরকার উপভোক্তাদের সতর্ক করছে। তারপর ফের একটি আধার বেসড ওটিপি আসবে। সেই ওটিপি দিলেই উপভোক্তার সেলফ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকার ও উপভোক্তাদের মধ্যে যাতে কোনও বিভ্রান্তি না হয়-সেজন্য এই ভেরিফিকেশন করানো হচ্ছে। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা রাখাই আমাদের লক্ষ্য। প্রাথমিক তালিকায় যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদেরই সেলফ ভেরিফিকেশন করানো‌ হচ্ছে।
অতীতে দেখা গিয়েছে, অনেক উপভোক্তা টাকা পেয়ে বাড়ি তৈরি না করে অন্যত্র ব্যবহার করেছেন। আবার প্রভাবশালীরা উপভোক্তাদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া, অনেকসময় এক উপভোক্তার টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাই এই ভেরিফিকেশন থাকলে অনায়াসেই প্রশাসন তা ট্র্যাক করতে পারবে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদীয়া জেলায় ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮১০জন আবেদনকারী ছিল।‌ যার মধ্যে ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ১১৭জনকে যোগ্য উপভোক্তা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৩৪হাজার আবেদনকারীর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ১৪হাজার ১০৯জন আবেদনকারীর হদিস মেলেনি।
সম্পর্কিত সংবাদ