Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার আবাস প্রকল্পে চাঙ্গা ইটশিল্প

বাংলার আবাস প্রকল্পে চাঙ্গা ইটশিল্প
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: কাঁচা মালের মূল্যবৃদ্ধি, প্রতিযোগিতামূলক বাজার সহ নানা কারণে এমনিতেই মন্দা চলছিল ইট তৈরির কারবারে। তার উপর গত কয়েক বছর ধরে আবাস যোজনা প্রকল্পে বন্ধ কেন্দ্রীয় বরাদ্দ। ২০২২ সালে আবাস যোজনার বাড়ির কথা মাথায় রেখে প্রচুর বাড়তি ইট উৎপাদন করেছিলেন ভাটা মালিকরা। কিন্তু, কেন্দ্র টাকা না পাঠানোয় বাড়ি তৈরি হয়নি। ফলে ইটের বিক্রিও মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কিন্তু, এবার রাজ্য সরকারের তরফে আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হতেই ফের আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে ডিসেম্বরে রাজ্যে আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। উপভোক্তাদের নামের তালিকাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে বাড়ি তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। সময়ের মধ্যে বাড়ি তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে ইট ভাটার মালিকদের নিয়ে বৈঠকেও বসে প্রশাসন। প্রশাসনের অনুরোধেই ইটভাটার মালিকরা বাড়তি ইট তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। বেঙ্গল ব্রিক ফিল্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক সৈয়দ সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আবাস যোজনার বাড়ির জন্য প্রশাসনের তরফে আমাদের ডেকে বৈঠক করে বাড়তি ইট উৎপাদনের অনুরোধ করা হয়েছিল। আমরাও তাই বাড়তি ইট করেছিলাম। স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় আড়াইগুণ বেশি ইট উত্পাদন হয়েছিল রাজ্যে। কিন্তু, আবাসের বাড়ি না হওয়ায় ওই ইট আর বিক্রি হয়নি। এখনও সমস্ত ভাটাতেই প্রচুর ইট মজুত হয়ে রয়েছে। ফলে চরম আর্থিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে গোটা শিল্পে।’
Advertisement
ইট ব্যবসায়ীদের কথায়, করোনার পর থেকে বড় বড় নির্মাণ শিল্পে ভাটার ইট ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিকল্প হিসেবে সিমেন্টের ইট কিংবা ফ্লাই অ্যাশের ইট ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রোমোটাররাও এই ইট ব্যবহার করছেন। তখন থেকেই ইটশিল্পে মন্দা তৈরি হয়। আবাস যোজনার বাড়ি তৈরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইট শিল্পে সঙ্কট আরও বাড়ে। তার উপর মাটি থেকে শুরু করে কয়লার মূল্যবৃদ্ধি তো রয়েইছে। বেঙ্গল ব্রিক ফিল্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, এরাজ্যে প্রায় ৮৭০০ ইটভাটা রয়েছে। এক একটি ভাটায় বছরে গড়ে ২০লক্ষ ইট প্রস্তুত হয়। কিন্তু, প্রতি ভাটাতেই বর্তমানে গড়ে ৫০ শতাংশ ইট বিক্রি না হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে নতুন করে উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। গত বছরই প্রায় ৩০শতাংশ ভাটায় উত্পাদন বন্ধ ছিল। এবছরেও ৫০ শতাংশ ভাটায় উত্পাদন বন্ধ রয়েছে।  ইটভাটা মালিকদের দাবি, ইটভাটার শ্রমিকরা মূলত ভিন রাজ্যের। সব মিলিয়ে এই শিল্পের সঙ্গে লক্ষাধিক শ্রমিক যুক্ত। উত্পাদন বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সকলেই। যদিও ফের আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির তোড়জোড় হতেই ইট শিল্প চাঙ্গা হবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। পুরুলিয়া শহরের অন্যতম ইটভাটা ব্যবসায়ী দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আশা করছি ইট শিল্পে এবার মন্দা কাটবে।
সম্পর্কিত সংবাদ