সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুর মহকুমায় অন্যতম প্রাচীন শিবমন্দির হিসাবে পরিচিত শিবপুর মৌজার সুরথেশ্বরতলা। এই মন্দিরের অনেক প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। রাজা সুরথ এই মন্দিরে শিবের উপাসনা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে ধুমধাম করে দুর্গাপুজো আয়োজন করেন স্থানীয় রায়পুর ও সুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। তবে, বর্তমানে সুরথেশ্বর শিবমন্দির তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সদস্যরা আন্তরিকভাবে মন্দিরকে সংস্কার করার পাশাপাশি শিবের আরাধনা নিয়মিত করে আসছেন। শিবরাত্রি ও শ্রাবণ মাসে এই মন্দিরে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। এবারেও যার অন্যথা হয়নি। এদিন সকাল থেকে শিবের উপাসকরা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে নিষ্ঠা সহকারে পুজো দিয়েছেন।
Advertisement
ইতিহাস থেকে জানা গিয়েছে বর্তমানে যে মন্দিরটি রয়েছে তা আগে জৈনদের তীর্থস্থান ছিল। পরবর্তীতে তাদের প্রভাব কমলে একাদশ শতকে রাজা সুরথ সেখানে শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সুরথেশ্বর মন্দিরের দক্ষিণ দিকের জঙ্গলে ছিল শিবাক্ষাতলা। রাজা সুরথ সেখানে দুর্গার আরাধনা করতেন। দেবীকে সন্তুষ্ট করতে তিনি নির্দিষ্ট সন্ধিক্ষণে লক্ষ মোষের বলি দিয়েছিলেন। এই বলির কারণেই পরবর্তীতে এই এলাকার নাম হয় বলিপুর। যা বর্তমানে বোলপুর নামে পরিচিত। ঐতিহাসিকভাবে এই মন্দিরের গুরুত্ব থাকলেও বাম আমলে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। তবে, বোলপুর ও রায়পুর এলাকার কিছু মানুষের আন্তরিক প্রয়াসে এই মন্দির ঢেলে সাজানো হয়। সেই কারণে শান্তিনিকেতন ঘোরার পাশাপাশি অনেকে এই মন্দিরও ঘুরে দেখেন।
সুরথেশ্বর শিবমন্দির তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সভাপতি দীনবন্ধু সিংহ ও সম্পাদক রাম ভদ্র বলেন সরকারি সাহায্য ও মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা পাশে দাঁড়ানোই এই মন্দিরের ঝাঁ চকচকে রূপ দিতে পেরেছি। বর্তমানে এই কমিটিতে ৮০জন সদস্য রয়েছেন। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় শিবরাত্রি উপলক্ষে এবারেও হাজার হাজার পুণ্যার্থীরা নিষ্ঠা সহকারে পুজো দিয়েছেন। দিনভর কীর্তন ও সন্ধ্যায় গঙ্গা আরতি করা হয়েছে। এছাড়া আজ, বৃহস্পতিবার ভক্তিমূলক শিব বন্দনার আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার বহু মানুষকে পাত পেড়ে খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ানো হবে।
সুরথেশ্বর শিবমন্দির তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সভাপতি দীনবন্ধু সিংহ ও সম্পাদক রাম ভদ্র বলেন সরকারি সাহায্য ও মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা পাশে দাঁড়ানোই এই মন্দিরের ঝাঁ চকচকে রূপ দিতে পেরেছি। বর্তমানে এই কমিটিতে ৮০জন সদস্য রয়েছেন। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় শিবরাত্রি উপলক্ষে এবারেও হাজার হাজার পুণ্যার্থীরা নিষ্ঠা সহকারে পুজো দিয়েছেন। দিনভর কীর্তন ও সন্ধ্যায় গঙ্গা আরতি করা হয়েছে। এছাড়া আজ, বৃহস্পতিবার ভক্তিমূলক শিব বন্দনার আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার বহু মানুষকে পাত পেড়ে খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ানো হবে।



