Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আত্মহত্যা করল এক বিচারাধীন বন্দি

বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আত্মহত্যা করল এক বিচারাধীন বন্দি
  • ২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা বোলপুর: বিছানার চাদর গলায় জড়িয়ে এক বিচারাধীন বন্দি আত্মঘাতী হয়েছে। শুক্রবার বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পুলিস সেলে এঘটনা ঘটে। এতে পুলিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মৃত দেবনাথ বাগদির(৩২) বাড়ি বোলপুর শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নায়েকপাড়ায়। ২৪ অক্টোবর তাকে ডাকাতির পরিকল্পনার অভিযোগে বোলপুর থানার পুলিস গ্রেপ্তার করেছিল।
Advertisement
দু’জন পুলিস কর্তব্যরত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ওই বন্দি আত্মহত্যা করল-তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় মৃতের পরিবার ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, পুলিসের গাফিলতির জেরেই দেবনাথের মৃত্যু হয়েছে। বোলপুর সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে। সংশোধনাগারের সুপার সুজিত পাল ব্যস্ত থাকায় এবিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
পুলিস জানিয়েছে, তাদের খাতায় দাগি আসামী ছিল দেবনাথ। ব্রাউন সুগার সহ নানারকম নেশায় বুঁদ হয়ে থাকত। নেশার তাড়নাতেই চুরি-ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০ অক্টোবর দেবনাথ সহ বেশ কয়েকজন বোলপুর- ইলামবাজার রোডের রায়পুর রাইস মিল লাগোয়া রাস্তায় কোনও বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু পুলিস আগেই খবর পেয়ে যাওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ওইদিন রাতেই রায়পুর থেকে পুলিস পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে দেবনাথের নাম বেরিয়ে আসে। তার চারদিন পর ২৪ অক্টোবর ভোরে বোলপুরের জামবুনি বাসস্ট্যান্ড থেকে দেবনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ডাকাতির পরিকল্পনার ঘটনায় এখনও অবধি নয়জনকে বোলপুর থানার পুলিস গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। বোলপুর আদালতের বিচারকের নির্দেশে তারা জেল হেফাজতে ছিল।
সংশোধনাগারেই দেবনাথ আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ায় শুক্রবার তাকে বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাকে হাসপাতালের তিনতলায় পুলিস সেলে রাখা হয়েছিল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সেলের ভিতরে থাকার সময় খাট দিয়ে দরজা আটকে দেয় দেবনাথ। এরপরই বিছানার বেড কভারের কাপড় দিয়ে লোহার গ্রিলে ঝুলে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে দরজা ভেঙে পুলিস তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
দেবনাথের মা মালতি বাগদির অভিযোগ, তাঁর ছেলে মারা গেলেও জেল কর্তৃপক্ষ বা পুলিস তাঁদের খবর দেয়নি। দেবনাথের বউ ও দু’টি বাচ্চা রয়েছে। তার পরিবার এই ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত দাবি করেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ