সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: মোবাইল আসক্ত হয়ে পড়ায় তরুণ প্রজন্ম মাঠে খেলাধুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। খেলা বাঁচিয়ে রাখতে গত চার বছর ধরে কবিগুরু কাপ আয়োজিত হচ্ছে। প্রতিবেশী সঙ্ঘের পরিচালনায় বোলপুরের রবীন্দ্রবীথি বাইপাসের কুশঢিবি মাঠে এই ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়ে আসছে। এবার তিনদিনের এই ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় রাজ্যের আটটি দল অংশ নেয়। নামী টেনিস বল ক্রিকেটাররা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। মঙ্গলবার ফাইনাল খেলায় এএসএ প্রান্তিক বনাম এডিএম কনস্ট্রাকশন টিম মুখোমুখি হয়। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত আট ওভারে এএসএ প্রান্তিক ১৭৪ রান করে। জবাবে এডিএম কনস্ট্রাকশন আট ওভার শেষে মাত্র ১৪০ রান সংগ্রহ করতে পারে। ৩৪ রানে এবার কবিগুরু কাপ জিতল এএসএ প্রান্তিক দল। এদিন ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাশ্মীরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রিকেটার আমির হোসেন। এছাড়াও ছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য সুদীপ্ত ঘোষ, স্থানীয় কাউন্সিলার শম্ভু সাহানি সহ বিশিষ্টরা। তিনদিনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা ঘিরে বোলপুরের মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন ফাইনাল খেলায় কুশঢিবি মাঠ কানায় কানায় ভরে ওঠে। ক্রিকেটাররা চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করেন। খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার হিসেবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। রানার্স আপ দলকে ৮০হাজার টাকা দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়াও ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, সেরা ব্যাটসম্যান ও সেরা বোলারকেও পুরস্কৃত করা হয়। আগামী বছর থেকে এই প্রতিযোগিতা আরও বড় আকারে করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
Advertisement
প্রতিবেশী সঙ্ঘের অন্যতম কর্মকর্তা শেখ অবিনাশ বলেন, দিনের পর দিন মাঠে নেমে খেলার ইচ্ছে হারিয়ে যাচ্ছে। শিশু থেকে বড়রা মোবাইল আসক্ত হয়ে পড়ছেন। আমরা চাই ক্রিকেট সহ অন্যান্য সমস্ত খেলাধুলো বেঁচে থাকুক। সেকারণেই গত চার বছর ধরে এই ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। সুদীপ্তবাবু বলেন, জীবন ও চরিত্র গঠনে খেলাধুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই ধরনের প্রতিযোগিতা যত বেশি আয়োজন হবে ততই ভালো।



