Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেলপাহাড়ীর রাস্তা সংস্কারের আবেদন করাই হয়নি: বনদপ্তর

বেলপাহাড়ীর রাস্তা সংস্কারের আবেদন করাই হয়নি: বনদপ্তর
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেষ্টায় ঝাড়গ্রাম জেলা এখন রাজ্যের অন্যতম পর্যটনস্থল। পর্যটকদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি পাহাড় জঙ্গল অধ্যুষিত বেলপাহাড়ী এলাকায়। স্বভাবতই বিনপুর ২ সমিতির উদ্যোগে বেলপাহাড়ীর বেশ কয়েকটি পর্যটনস্থলে রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য বিভাগীয় ব্লক প্রশাসন থেকে শীর্ষ প্রশাসন স্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু বনবিভাগের আপত্তিতে রাস্তাঘাটের কাজ থমকে গিয়েছে। এই নিয়ে বিনপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে রেজোলিউশন করে বিষয়টি বিভাগীয় জেলা প্রশাসনের আধিকারদের কাছে জানানো হয়েছে বলে জানান বিনপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ সিং সর্দার। তিনি বলেন, মৌখিক ভাবে বিষয়টি মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাকেও জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্যুরিস্ট স্পটগুলিতে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। তার মধ্যে ভুলাভেদা গ্রাম পঞ্চায়েতের লালজল ও চিড়ুগোড়া থেকে সিঁন্দুরিয়া ভায়া ঘাঘরা এই দু’টি রাস্তা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তা বন বিভাগের আপত্তিতে খারিজ হয়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত ২০০১-’০২ সাল নাগাদ  হাতি সংরক্ষণের জন্য ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও এ রাজ্যের বৃহত্তর বনাঞ্চল নিয়ে ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভ ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। কোনও জায়গা রিজার্ভ ঘোষণা হলে সেই জায়গায় পাকা রাস্তা, কাউকে ভূমির জন্য পাট্টা, হোম স্টে, বালি বা পাথর উত্তোলন এসবই  চালু রাখার জন্য কেন্দ্রীয় বন বিভাগের  অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান প্রাক্তন এক বন আধিকারিক। বাম আমলে সেই সমস্ত নিয়মের তোয়াক্কা না করে এলাকার সাদা পাথর, অন্যান্য  পাথর বিক্রি করে তৎকালীন বাম সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ঝাড়গ্রাম শহরে এক গর্ভবতী হাতির নৃশংস হত্যার ফলে ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভের বিষয়টি ফের সামনে আসে। তাতে বেলপাহাড়ীর কয়েকশো বিঘা জায়গা এই প্রজেক্টের আওতায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ময়ূরঝর্না এলিফ্যান্ট রিজার্ভ বাস্তবায়িত করার জন্যই কি এলাকার রাস্তাঘাট, হোম স্টে ইত্যাদি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বনবিভাগ? এই নিয়ে ঝাড়গ্রামের ডিএফও ওমর ইমাম বলেন, যে দু’টি রাস্তার কথা বলা হচ্ছে তা নির্মাণের জন্য বনদপ্তরের কাছে কোনও আবেদন জমা পড়েনি। বন বিভাগের কাছে আবেদন জানালে বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দেখব। জঙ্গলের মধ্যে কিছু তৈরি হলে আমাদের আপত্তি থাকে। কিন্তু আইনের দ্বারা অনুমোদিত হলে সে বিষয়ে আমাদের কিছু বলার থাকে না।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ