নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: মঙ্গলবার বাঁশপাহাড়ীর ধরমপুর-রামপুরের জঙ্গলে বাঘের পায়ের ছাপ মেলায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। গত ডিসেম্বর থেকে চলতি ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই নিয়ে বার চারেক বেলপাহাড়ীর জঙ্গলে বাঘের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলল। গতবছর ডিসেম্বরে জিনাত এসে ঘাঁটি গেড়েছিল এই জঙ্গলে। তারপর জানুয়ারি মাসে আরও দু’ বার বাঘ দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এবার ফের বাঘের পায়ের ছাপ মিলল। এদিকে সামনেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। বেলপাহাড়ী এলাকার পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষায় জেলার শিক্ষাদপ্তর জেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবে। জেলা শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিক শক্তিভূষণ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়েও পুলিস, প্রশাসন ও বনবিভাগের তরফে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময়েও বেলপাহাড়ী সহ জঙ্গল লাগোয়া এলাকার পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। জেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে বৈঠকে বসব। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ধরমপুর-রামপুর জঙ্গলে আমাদের কর্মীরা গিয়েছিলেন। পায়ের ছাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে।
Advertisement
বেলপাহাড়ীর জঙ্গলে বাঘের আনাগোনা বাড়ায় আশপাশের গ্ৰামের বাসিন্দারা আতঙ্কিত। তাঁরা জঙ্গল লাগোয়া পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। তাছাড়া মার্চ মাসের ৩ তারিখ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার আগে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যাওয়ায় পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন। বেলপাহাড়ী গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আত্রেয়ী চক্রবর্তী বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে ছাত্রছাত্রীদের জন্য উদ্বেগ হচ্ছে। আশা করছি প্রশাসন ও বন বিভাগ বিষয়টি নিয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরের গোড়ায় ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল হয়ে বেলপাহাড়ীর জঙ্গলে ঢুকে পড়েছিল বাঘিনী জিনাত। জিনাতকে ধরতে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার জেলার বন বিভাগকে আসরে নামতে হয়। এই বছর জানুয়ারি মাসে পুরুলিয়া ঘেঁষা হাঁড়িডার জঙ্গলে বাঘের পায়ের ছাপ মেলে। জঙ্গলে যাওয়া স্থানীয় চারজন বাসিন্দা বাঘ দেখার দাবি করেন। ফের বাঘের পায়ের ছাপ মেলে কাঁকড়াঝোরের জঙ্গলে। বেলপাহাড়ীর সিঙ্গিডোবা গ্ৰামের এক গৃহবধু দাবি করেন, কেটকী ঝর্নার কাছে বাঘ একটি ছাগল তুলে নিয়ে যায়। বনবিভাগের আধিকারিকরা অস্বীকার করছেন না যে, ওড়িশার সিমলিপাল, ঝাড়খণ্ডের দলমা পাহাড়, হাজারিবাগ হয়ে বেলপাহাড়ীর বিস্তীর্ণ জঙ্গল বাঘের বিচরণ হয়ে উঠেছে। এক বা একাধিক বাঘ গভীর জঙ্গলে এতদিন ঘোরাফেরা করলেও এবার সেগুলি লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামবাসীদের চোখে বার বার বাঘের পায়ের ছাপ ধরা পড়েছে। এক প্রাক্তন বনকর্তা বলেন, ঝাড়গ্রামে ১৯৮৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জঙ্গলের পরিধি ও ঘনত্ব বেড়েছে। স্বাধীনতা পূর্বে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলেরও গাছ নির্বিচারে কাটা হয়েছিল। জঙ্গলের মাঝে মাঝে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। বিস্তীর্ণ জঙ্গলে বন্যপ্রাণীদের অবাধ চলাফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ইদানিং বন সৃজনের ফলে ফাঁকা জায়গাগুলো আবার জঙ্গলের চেহারা নেয়। ফলে জঙ্গলে বন্যপ্রাণীদের অবাধে ঘুরে বেড়ানো সহজ হয়েছে। যার জেরে ঘনঘন বাঘের দেখা মিলেছে। বাঘের পায়ের ছাপ।-নিজস্ব চিত্র
উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরের গোড়ায় ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল হয়ে বেলপাহাড়ীর জঙ্গলে ঢুকে পড়েছিল বাঘিনী জিনাত। জিনাতকে ধরতে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার জেলার বন বিভাগকে আসরে নামতে হয়। এই বছর জানুয়ারি মাসে পুরুলিয়া ঘেঁষা হাঁড়িডার জঙ্গলে বাঘের পায়ের ছাপ মেলে। জঙ্গলে যাওয়া স্থানীয় চারজন বাসিন্দা বাঘ দেখার দাবি করেন। ফের বাঘের পায়ের ছাপ মেলে কাঁকড়াঝোরের জঙ্গলে। বেলপাহাড়ীর সিঙ্গিডোবা গ্ৰামের এক গৃহবধু দাবি করেন, কেটকী ঝর্নার কাছে বাঘ একটি ছাগল তুলে নিয়ে যায়। বনবিভাগের আধিকারিকরা অস্বীকার করছেন না যে, ওড়িশার সিমলিপাল, ঝাড়খণ্ডের দলমা পাহাড়, হাজারিবাগ হয়ে বেলপাহাড়ীর বিস্তীর্ণ জঙ্গল বাঘের বিচরণ হয়ে উঠেছে। এক বা একাধিক বাঘ গভীর জঙ্গলে এতদিন ঘোরাফেরা করলেও এবার সেগুলি লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামবাসীদের চোখে বার বার বাঘের পায়ের ছাপ ধরা পড়েছে। এক প্রাক্তন বনকর্তা বলেন, ঝাড়গ্রামে ১৯৮৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জঙ্গলের পরিধি ও ঘনত্ব বেড়েছে। স্বাধীনতা পূর্বে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলেরও গাছ নির্বিচারে কাটা হয়েছিল। জঙ্গলের মাঝে মাঝে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। বিস্তীর্ণ জঙ্গলে বন্যপ্রাণীদের অবাধ চলাফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ইদানিং বন সৃজনের ফলে ফাঁকা জায়গাগুলো আবার জঙ্গলের চেহারা নেয়। ফলে জঙ্গলে বন্যপ্রাণীদের অবাধে ঘুরে বেড়ানো সহজ হয়েছে। যার জেরে ঘনঘন বাঘের দেখা মিলেছে। বাঘের পায়ের ছাপ।-নিজস্ব চিত্র



