নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অন্নপূর্ণা যোজনার কাজ থেকে অব্যাহতির দাবিতে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখালেন বিএলও সহ সরকারি কর্মীরা। শুক্রবার দুপুরে এনিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয় বারাসত, বাগদা ও বসিরহাটে। বিক্ষোভের পাশাপাশি তারা বিডিও ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত দরখাস্ত জমা দেন। বারাসত ২ বিডিও অফিসে বিক্ষোভে শামিল হন প্রায় ২০০ জন বিএলও। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই কর্মসূচির শেষে তাঁরা বিডিওর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে বিএলওদের কাছে মেসেজ পাঠানো হয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। তাতে বলা হয়েছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে করার পাশাপাশি বিএলওরা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। এই মেসেজ আসার পরেই ক্ষুব্ধ বিএলও’রা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এসআইআর–সহ একাধিক প্রশাসনিক ও সমীক্ষা সংক্রান্ত কাজের জন্য তাঁদের বারবার মাঠে নামতে হচ্ছে। সেই কাজ করতে গিয়ে একাধিকবার সাধারণ মানুষের রোষ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখেও পড়তে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, এমন অভিযোগও উঠে এসেছে বিক্ষোভকারীদের তরফে।
এক বিক্ষোভাকারী সনাতন ঘোষ বলেন, আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, পাঠদান করি। এখন যদি ফর্ম পূরণ করতে হয় তাহলে স্কুলের কী হবে? আরেক বিক্ষোভকারী রূপা পাল বলেন, আমি শাসনের আইসিডিএস কর্মী। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশমতো আমরা বিএলও হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। মানুষের অনেক অভিযোগের সম্মুখীন হতে হয়েছে। আবার অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্প চাপিয়ে দেওয়া হলে কাজের চাপ আরও বাড়বে। তাই এই কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে ডেপুটেশন দিলাম। অন্যদিকে, বসিরহাটের বেশ কিছু বিএলও বসিরহাট বিদ্যালয়ের সার্কেল অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, আমরা নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে ছাড়া আর অন্য কোনো কাজ করব না। বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি তাঁরা একটি গণ ডেপুটেশন জমা দেন।
একই দাবিতে এদিন বাগদার বিডিওকে স্মারকলিপি জমা দিলেন বিএলওরা। তাঁদের দাবি, এসআইআরের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে হেনস্তা হতে হয়েছে। আবার অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও একই কাণ্ড হতে পারে। কারণ সরকারের নির্দেশ মতো কাজ করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে অনেকের নাম কেটে যেতে পারে। তাই এই কাজ থেকে আমরা মুক্তি চাই। তবে এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি বাগদার বিডিও।