সংবাদদাতা, কাটোয়া: ইনিউমারেশন ফর্মের যাবতীয় তথ্য ডিজিটাইজ করতে হবে। তার জন্য কমিশনের ‘বিএলও অ্যাপ›-এ প্রতিটি ডাটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিএলওদের৷ বৃহস্পতিবার কাটোয়া বিধানসভার বহু বিএলও ডিজিটাইজেশন নিয়ে ক্ষোভ দেখান৷ তাঁরা মহকুমা শাসকের সামনেই আত্মহত্যার হুমকি দেন৷ তাঁদের দাবি, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছে। এরজন্য ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দিতে হবে৷ এত অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে কাজ হবে৷
কাটোয়া-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাঘরে এদিন কাটোয়া বিধানসভার বিএলওদের ডাকা হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে৷ কারণ, এবার ইনিউমারেশন ফর্মের তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ‘বিএলও অ্যাপ’-এ আপলোড করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল৷ সেখানে বিধানসভার ৯০ শতাংশ বিএলওই হাজির ছিলেন৷ আচমকা সেখানে বিএলওদের একটা বড় অংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন৷ তাঁদের সাফ যুক্তি, সারাদিন ঘুরে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করতে হচ্ছে৷ তারপর যাঁরা ফর্ম পূরণ করতে পারছেন না, তাঁদের পূরণ কতে দিতে হচ্ছে৷ তাছাড়া আবার সেই ফর্ম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই জমা দিতে হবে৷ এরপর কখন ডিজিটাইজ হবে৷ কারণ অনেকের কাছে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, এমনকী ইন্টারনেট সংযোগ নেই। গ্রামীণ এলাকায় সব সময়ে ইন্টারনেট সংযোগ ভালো পাওয়া যায় না৷ তাই এই কাজ বিএলওরা কীভাবে করবেন৷ কাটোয়ার খেপাকালীতলা এলাকার বিএলও দেবাশিস দাস মহকুমা শাসকের সামনেই চিৎকার করে বলতে থাকেন, আমাদের উপর শারীরিক ও মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে৷ আমি অসুস্থ৷ আমাকে গুলি করে দিন৷ সাসপেন্ড করে দিন৷ আমি ভাবছিলাম গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করব৷ কিন্তু ডিজিটাইজ করতে আমরা অপারগ৷ তাহলে আমাদের কাছে একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দেওয়া হোক৷ আমরা এসব করতে জানি না৷
কাটোয়া মহকুমা শাসক অর্নিবাণ বসু বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনেই কাজ করছি৷ তারা যে সময় আমাদের বেঁধে দিয়েছেন, তারমধ্যেই কাজ করতে হবে। কেউ যদি অসুস্থ হন, তাহলে তিনি উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে আমাদের জানান৷ আমরা সেই আবেদন কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠাব। তাঁদের মেডিকেল বোর্ড যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা আমরা কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেব। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সেটাই করব।এদিন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কাটোয়ার বহু বিএলও ডিজিটাইজেশনের কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ তাঁরা এই কাজ করতে অপারগ বলে মহকুমা প্রশাসনকে একটি লিখিত জমা দেন।এদিন বিএলও স্বরূপকুমার চক্রবর্তী, দেবাশিস দাস, অমিতকুমার দাস বলেন, আমরা ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করতেই হিমশিম খাচ্ছি৷ আমাদের পরিবার দেখতে পারছি না৷ খেতে সময় পাচ্ছি না৷ তার উপর অ্যাপে ডিজিটাজ করার জন্য আপলোড করতে সময় লাগছে। আমাদের অনেকেই এসব কাজে প্রযুক্তিগত দিক থেকে দক্ষতা ন।ই৷ তাহলে বাড়তি কাজ আমরা কখন করব। তাছাড়া ইন্টারনেট সংযোগ সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না৷ তাই আমরা জানিয়ে দিয়েছি আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হোক। নিজস্ব চিত্র