নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়া এবং সংবাদদাতা: কোথাও ক্লাব, কোথাও পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি, কোথাও আবার মন্দিরে বসে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির অভিযোগ উঠল বিএলও’দের বিরুদ্ধে। ভাঙড়ে এক পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ির উঠোনে বসে বিএলও ফর্ম বিলি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার, দক্ষিণ হাওড়ার দুই জায়গায় ক্লাবঘরে যেখানে তৃণমূলের রাজনৈতিক শিবির চলছে, সেখানে বসেই ফর্ম বিলির অভিযোগ উঠেছে বিএলও’র বিরুদ্ধে।
ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকের পোলেরহাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোফিয়া রহমানের বাড়ি নওয়াবাদ গ্রামে। রবিবার সেখানে ৯০ নম্বর পার্টের বিএলও শাহিদুল ইসলাম প্রধানের বাড়িতে বসে ফর্ম বিলি করেছেন বলে অভিযোগ। বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি বলেন, বিএলও যদি এমন কাজ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলির কাছে কী বার্তা যাবে! বিষয়টি নিয়ে আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাব। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহিদুল। তিনি বলেন, কোনও ফর্ম বিলি করা হয়নি। প্রধানের উঠোনে বসে ফর্ম বাছাই করা হয়েছে মাত্র। দায় এড়িয়েছেন প্রধানও। তবে শুধু ভাঙড় নয়, বারুইপুরের মল্লিকপুর থেকেও ক্যাম্প থেকে ফর্ম বিলির অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, একই বিতর্ক দক্ষিণ হাওড়ায়। অভিযোগ, ক্লাবের বাইরে তৃণমূলের পোস্টার— ‘বাংলার ভোটরক্ষা শিবির’। এর ভিতরে বসেই এনিউমারেশন ফর্ম বিলি করছেন বিএলও। রবিবার এমনই অভিযোগ ওঠে দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভার উনসানি সর্দারপাড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভার ২ নম্বর বুথে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির কথা ছিল বিএলও শেখ খাজা খইরুল ইসলামের। অভিযোগ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে কয়েকটি ফর্ম বিলির পর তিনি স্থানীয় একটি ক্লাবে ঢুকে পড়েন। ক্লাবের মেঝেতে বসে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ফর্ম তুলে দেন তিনি। তৃণমূলের বিএলএ সহ দলীয় কর্মীরা তাঁকে রীতিমতো ঘিরে রেখেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই ক্লাবে বসে বিএলওকে ফর্ম বিলি করতে দেখে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। যদিও ওই বিএলও’র যুক্তি, ফর্ম বাছাইয়ের জন্যই তিনি ক্লাবে ঢুকেছিলেন। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন এসে ফর্ম নিয়ে যান। ক্লাবে যে রাজনৈতিক দলের ক্যাম্প করা হয়েছিল, তা তিনি জানতেন না। অভিযোগ, সেখানে বসে তিনি অন্তত ৫০ জনকে ফর্ম বিলি করেছেন। যদিও স্থানীয় বাসিন্দা শাহারুল ইসলাম বলেন, ‘বিএলও বাড়ি বাড়ি ফর্ম দিতেই বেরিয়েছিলেন। কয়েকজনকে দেওয়ার পর ক্লাবে আসেন তিনি।’ তৃণমূলের বিএলএ’র দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের সুবিধার জন্যই এক জায়গা থেকে ফর্ম দেওয়া হচ্ছিল। দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভার শালিমার এলাকায় এদিন একটি মন্দিরের দালানে বসে বিএলও ফর্ম বিলি করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। প্রতিবাদ করায় বিজেপির বিএলএ ললিতনারায়ণ মেহতাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে আসে বি গার্ডেন থানার পুলিশ। বিজেপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, এসআইআর আতঙ্কে মৃত কুলপি ও ভাঙড়ের দুই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে আর্থিক সহায়তা দেন তৃণমূলের নেতৃত্ব। এদিন ভাঙড়ের জয়পুরে মৃত শফিউল গাজির বাড়িতে যান তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা সহ স্থানীয় নেতারা। মৃতের স্ত্রীর হাতে তিন লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হয়। কুলপিতে মৃত সাহাবুদ্দিন পাইকের বাড়িতে যা ন সাংসদ বাপি হালদার ও পার্থ ভৌমিক। এদিকে, বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দারের নেতৃত্বে বেগমপুর ২০০ কলোনিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। যেখানে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন উপস্থিত ছিলেন। কাকদ্বীপে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শশী পাঁজার উপস্থিতিতে এক বিশাল মিছিল বের করে তৃণমূল। এসআইআর নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেন তিনি।