Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মধ্যমগ্রামে মদের আসর থেকে উদ্ধার যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ, আটক চার, প্রাক্তন পুলিশকর্মী বাবার নাম ভাঙিয়ে ছেলের কুকীর্তি!

বাবা ছিলেন পুলিশকর্মী। অবসরের পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বাবার নাম ভাঙিয়ে দাপট বজায় রেখেছে ছেলে।

মধ্যমগ্রামে মদের আসর থেকে উদ্ধার যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ, আটক চার, প্রাক্তন পুলিশকর্মী বাবার নাম ভাঙিয়ে ছেলের কুকীর্তি!
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাবা ছিলেন পুলিশকর্মী। অবসরের পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বাবার নাম ভাঙিয়ে দাপট বজায় রেখেছে ছেলে। অভিযোগ, প্রায়ই বাড়ি লাগোয়া বাগানবাড়িতে মদের আসর বসায় সে। সেই বাগানবাড়িতেই সোমবার সকালে পাওয়া গেল এক যুবকের দেহ। ঘটনাটি মধ্যমগ্রাম থানার হুমাইপুরে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম বুদ্ধদেব মণ্ডল (২৫)। তাঁর মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নাক, মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল যুবকের। পরিবারের আশঙ্কা, নেশার আসরে খুন করা হয়েছে বুদ্ধদেবকে। ঘটনাস্থলে মদের আসরের বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাগানবাড়ি সিল করা হয়েছে। মৃতের পরিবারের তরফে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে মধ্যমগ্রাম থানায়। প্রাক্তন পুলিশকর্মীর ছেলে আজাদ রহমান, তাঁর মা ও দুই বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রাম হুমাইপুরের বাসিন্দা মতিয়ার রহমান রাজ্য পুলিশের কর্মী ছিলেন। তিনি মধ্যমগ্রাম থানা থেকে অবসর নেন। সম্প্রতি মারা গিয়েছেন। বাড়িতে থাকতেন তাঁর স্ত্রী ও ছেলে আজাদ। অভিযোগ, প্রতিদিনই সন্ধ্যার পরে আজাদ রহমান বাড়িতে মদের আসর বসায় বন্ধুদের নিয়ে। আজাদের পুরনো বন্ধু বুদ্ধদেব। তিনি গাড়ির খালাসির কাজ করতেন। আসরে প্রায় আসতেন বুদ্ধদেব। বাড়িতে মদের আসর চলা নিয়ে মধ্যমগ্রাম থানায় অভিযোগও জমা দেন স্থানীয়রা। তাঁদের ক্ষোভ, পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। 

Advertisement

রবিবার রাতেও মদের আসর বসে। বুদ্ধদেব, আজাদ ও বেশ কয়েকজন বন্ধু ছিল আসরে। স্থানীয়দের দাবি, রাতে আসর চলাকালীন গণ্ডগোলের আওয়াজ শোনা গিয়েছিল। সকালে উদ্ধার হয় বুদ্ধদেবের রক্তাক্ত দেহ। তাঁর গলায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছিল আঘাতের চিহ্ন। এমনকী মাথার পিছনে অংশেও ছিল আঘাতের চিহ্ন। আজাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এলাকার লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দা জামাইল ইসলাম বলেন, বাবা পুলিশকর্মী হওয়ায় ছেলে বাড়িতে সাহস করে নেশার আসর বসাত। আসরে ভিড় জমাত বাইরের লোকজনও। একাধিকবার অভিযোগ করলেও সুরাহা হয়নি। আসরে গণ্ডগোলের জেরেই বুদ্ধদেবকে খুন করা হয়েছে। মৃতের দাদু শ্যামল মণ্ডল বলেন, বুদ্ধদেব মাঝেমধ্যে রাতে বাড়ি ফেরে না। কালও ফেরেনি। সকালে দেহ উদ্ধার হয়। বন্ধুরা সব জানে। বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার (জোনাল) অতীশ বিশ্বাস বলেন, মৃতের মাথার পিছনে আঘাত ছিল। চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ