Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

রক্তে ভেজা প্রেমের কবিতা

‘... দু’দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন’। দু’দণ্ড শান্তির খোঁজেই তো যাবতীয় হাপিত্যেশ। চাতক হয়ে বসে থাকা। অপেক্ষা করা অনন্তকাল...।

রক্তে ভেজা প্রেমের কবিতা
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সিনেমার সমালোচনা: ও রোমিও 

Advertisement

শাহিদ কাপুর , তৃপ্তি দিমরি, নানা পাটেকর , তামান্না ভাটিয়া 

 ‘... দু’দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন’। দু’দণ্ড শান্তির খোঁজেই তো যাবতীয় হাপিত্যেশ। চাতক হয়ে বসে থাকা। অপেক্ষা করা অনন্তকাল...। আর হদিশ মিললে? তাকে ধরে রাখার সংগ্রাম। বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত ‘ও রোমিও’ এই লড়াইয়েরই উপাখ্যান। রক্তে রাঙিয়ে পর্দায় এক অন্ধকার দুনিয়ার কবিতা লিখেছেন পরিচালক। সেই কবিতা কখনো সুখপাঠ্য, কখনো আবার ছন্দ হারিয়েছে। 
মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাংস্টার হুসেন উস্তারা (শাহিদ কাপুর) কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে। তার অস্ত্র ক্ষুর (উস্তারা)। নির্মমভাবে ক্ষুর চালানোই তার পেশা। নেশাও। হুসেনের জীবন ঘুরপাক খায় অন্ধকার জগতের চক্রাবর্তে। বলিউড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কীভাবে সেই দুনিয়ার অবাধ মেলামেশা— তা দেখাতে সংকোচ বোধ করেননি পরিচালক। সঙ্গে টাকা আর আমোদ-প্রমোদের সহাবস্থান। পর্দায় গ্যাংস্টারের চরিত্রকে জীবন্ত করেছেন শাহিদ। তিনিই এ ছবির মেরুদণ্ড। আর হৃদয়? ‘আফশানা’ চরিত্রে তৃপ্তি দিমরি। স্বামীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর আফশানা হুসেনের কাছে আসে সুপারি দিতে। গোয়েন্দা আধিকারিক খানের (নানা পাটেকর) নির্দেশ মানতে মানতে হুসেনও ক্লান্ত। অ্যাডভেঞ্চারের অমোঘ আকর্ষণের জন্যই হোক বা আফশানার প্রতি প্রেমের দুর্বলতায় সুপারি নিয়ে নেয় হুসেন। শুরু হয় জালাল (অবিনাশ তিওয়ারি) বধ অভিযান। সেই অভিযানের পথে একের পর এক নৃশংস খুন, প্রবাহমান রক্তস্রোত আর গর্জন... এভাবেই এগিয়েছে চিত্রনাট্য। 
সাংবাদিক হুসেন জাইদির ‘মাফিয়া কুইনস অব মুম্বই’-এর একটি অধ্যায় থেকে এ ছবির গল্প অনুপ্রাণিত। সঞ্জয়লীলা বনশালী এই বই থেকেই ‘গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি’র চিত্রনাট্য সাজিয়েছিলেন। তবে তিনি গল্পের মুখ্য চরিত্র বদলে দেননি। বিশাল সেটি করেছেন। তাঁর ছবি পুরুষকেন্দ্রিক। ফলে বইয়ের পাতার ‘স্বপ্নাদিদি’ বা আফশানা পর্দায় পার্শ্বচরিত্র। গল্প এগিয়েছে হুসেনের দৃষ্টিভঙ্গিতে। সেই চরিত্রের মধ্যে যাপন করেছেন শাহিদ। এটি শাহিদ ও বিশাল জুটির চতুর্থ ছবি। ফলে দর্শকের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া হবে, অস্বাভাবিক নয়। সেই প্রত্যাশার ভারে খানিক ন্যুব্জ ছবিটি। তবে শাহিদের ফুলমার্কস প্রাপ্য। শরীরী ভাষা, চোখের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ক্লান্তি, ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা— সবমিলিয়ে পারফরম্যান্স অনবদ্য। প্রেমিক ও খুনির দ্বৈত সত্তাকে ব্যালান্স করেছেন তিনি। পর্দায় হুসেন ও আফশানার রসায়ন চোখ জুড়িয়ে দেয়। অ্যাকশন দৃশ্যে এই দুই চরিত্রের সমন্বয় অপূর্ব ফুটিয়েছেন শাহিদ ও তৃপ্তি। দু’জনেই অত্যন্ত সাবলীল। তৃপ্তির সরলতা মুগ্ধ করবে। তবে দুই চরিত্রের ‘প্রেম’ এত দৃঢ় হল কীভাবে— তা আরেকটু সময় নিয়ে দেখাতে পারতেন পরিচালক। জালাল চরিত্রে মন্দ নন অবিনাশ। তবে খলচরিত্রের থেকে আরও তুখোড় অভিনয় আশা করা যায়। কৌতুক দৃশ্যে নানা পাটেকর, ফরিদা জালালরা যথাযথ। ভালো লাগে দিশা পাটানি, তামান্না ভাটিয়া, বিক্রান্ত ম্যাসির অভিনয়ও।  
ছবিতে কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর স্টাইলে বিভিন্ন ঘরানাকে মিলিয়েছেন বিশাল। সঙ্গে ছুঁয়ে গিয়েছেন নিজের স্বকীয়তা। ‘মকবুল’, ‘ওমকারা’, ‘হায়দার’-এর পরিচালক শেক্সপিয়রের ভাবনা, দর্শনকে সূক্ষ্মভাবে মিশিয়েছেন চিত্রনাট্যে। ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’-এর প্রেম, মৃত্যু আর নিয়তির পরিহাস... এ ছবিকেও ঘিরে রেখেছে। শেক্সপিয়রের প্রেক্ষাপটকে তিনি এনে ফেলেছেন মুম্বইয়ের গ্যাংস্টার জগতে। সূক্ষ্মতা বিশালের ছবির বৈশিষ্ট্য। বহু দৃশ্যে তার ছাপ রেখেছেন তিনি। অ্যাকশনের মধ্যেই প্রেমের যে কবিতা পর্দায় লিখলেন, দীর্ঘদিন স্মৃতিতে থাকবে। মন কাড়ল অপূর্ব সংলাপও। বিশালের ছবির অন্যতম ইউএসপি তো এটাই। 
শান্তনু দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ