নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গরম পড়তেই আরামবাগ প্রফুল্ল চন্দ্র সেন গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রক্তের আকাল দেখা দিয়েছে। যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত নেই বললেই চলে। পজিটিভ গ্রুপের রক্তও কমে আসছে। তাই রক্তদানে আরও উৎসাহ বাড়াতে তৎপর হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর পরিজনকেও রক্ত দিতে অনুরোধ জানাচ্ছেন কর্মীরা।
আরামবাগ মেডিক্যালের ব্লাড ব্যাঙ্কের ভারপ্রাপ্ত মেডিক্যাল অফিসার গৌরাঙ্গ সরকার বলেন, বর্তমানে রক্তের চাহিদার তুলনায় জোগান কম রয়েছে। প্রতিদিন হাসপাতালে ৬০ থেকে ৭০ ইউনিট রক্তের চাহিদা থাকে। কিন্তু, সেখানে জোগান থাকছে তার অর্ধেক। রক্ত সঙ্কট কাটাতে শিবিরে বেশি করে জোর দেওয়া হচ্ছে। আরামবাগ মহকুমার পাশাপাশি ভিন জেলাতেও আমরা ক্যাম্প করছি।
শনিবারের স্টক অনুযায়ী ব্লাড ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পূর্ণ ব্লাডের ক্ষেত্রে এ পজিটিভ রক্ত রয়েছে সাত ইউনিট। কিন্তু, এ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত শূন্য। এবি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত রয়েছে চারটি। এই গ্রুপের নেগেটিভ রক্ত শূন্য। বি পজিটিভ রক্ত রয়েছে ৩৮টি। বি নেগেটিভ নেই। ও পজিটিভ গ্রুপের রক্ত এদিন পর্যন্ত রয়েছে ২৬টি। কিন্তু, ও নেগেটিভ শূন্য। অন্যদিকে, এ পজিটিভ পিআরবিসি রয়েছে ১৫ ইউনিট। এ নেগেটিভ একটি। এবি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত রয়েছে ২০টি। এবি নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত রয়েছে একটি। বি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত রয়েছে ৪৫টি। বি নেগেটিভ নেই। ও পজিটিভ গ্রুপের রক্ত এদিন পর্যন্ত রয়েছে ২০টি। ও নেগেটিভ রয়েছে দু’টি।
ব্লাড ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জনকে রক্ত দিতে হয়। এছাড়া ক্যান্সার, ক্রনিক কিডনি রোগে আক্রান্তদের জন্যও রক্ত সরবরাহ হয় ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে। এছাড়া সার্জারি, স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের রোগীদের জন্যও নিত্যদিন রক্তের প্রয়োজন হয়। ফলে সেখানেও রক্ত দেয় ব্লাড ব্যাঙ্ক। প্রত্যেকদিনই চাহিদা বাড়তে থাকছে। কিন্তু, সেই তুলনায় রক্তের জোগান কম থাকছে। ব্লাড ব্যাঙ্কের এক কর্মী বলেন, আগের তুলনায় রক্ত দাতার সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু, তারসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চাহিদাও। তাই চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ফারাক থাকছে। তবু চেষ্টা করা হচ্ছে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা বাড়ানোর।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ক্লাবের তরফে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। আগামী, ২০ দিনের মধ্যে পাঁচটি শিবিরের নিশ্চয়তা আপাতত পাওয়া গিয়েছে। শিবিরের সংখ্যা আরও বাড়াতে তৎপরতা নিয়েছে ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী বলেন, আমরা দলের তরফে মহকুমাজুড়ে সারা বছরই রক্তদান শিবির করি। গরমের সময়ও যাতে রক্ত পেতে কোনও রোগীর অসুবিধা না হয়, তারজন্য কর্মীদের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিজেপির পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, বছরভর দলের তরফে শিবির করা হয়। গ্রীষ্মকালীন সঙ্কট মেটাতে কয়েকটি শিবিরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।