Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রক্তদান শিবির থেকে দূরে নেতানেত্রীরা, প্রচারে ব্যস্ত কর্মীরা! ভোট ঘোষণার পরেই রক্তের সংকট মালদহে

জেলায় সারা বছরই প্রায় রক্তের যোগান কম থাকে ব্লাড ব্যাংকে। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণার পরেই কার্যত রক্ত সংকট শুরু হয়েছে মালদহে।

রক্তদান শিবির থেকে দূরে নেতানেত্রীরা, প্রচারে ব্যস্ত কর্মীরা! ভোট ঘোষণার পরেই রক্তের সংকট মালদহে
  • ২৬ মার্চ, ২০২৬ ১৯:০৩
Prefer us on Google

সৌম্য দে সরকার, মালদহ: জেলায় সারা বছরই প্রায় রক্তের যোগান কম থাকে ব্লাড ব্যাংকে। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণার পরেই কার্যত রক্ত সংকট শুরু হয়েছে মালদহে।

Advertisement

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা জেলার থালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের পরিবারের। নির্বাচনি বিধিনিষেধের কারণে রক্তদান শিবির আয়োজনে বাধা রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি এবং জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রার্থীদের। ফলে চরমে উঠেছে রক্তের অভাব। মালদহ মেডিকেল কিংবা চাঁচলের সরকারি ব্লাড ব্যাংক কার্যত শূন্য। এই জরুরি পরিস্থিতিতে রক্তদানে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সক্রিয় হয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালদহ মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।
মালদহের দু’টি সরকারি ব্লাড ব্যাংকেই প্রবল চাপ থাকে সারা বছর। প্রতিবেশী জেলা,বিহার ও ঝাড়খণ্ডের রোগীদের একটা অংশও মালদহে আসেন চিকিৎসার জন্য। পাশাপাশি, জেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সের মানুষ রয়েছে। তাঁদের প্রতি সাতদিন থেকে তিনমাস অন্তর রক্ত দিতে হয়। ফলে মালদহের ব্লাড ব্যাংকে রক্ত বাড়ন্ত থাকে প্রায়ই। কিন্তু নির্বাচনের মরশুমে রক্তের চাহিদা এবং জোগানের মধ্যে অবিশ্বাস্য ফারাক তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পদাধিকারীরা।
সেন্ট জন অ্যাম্বুলেন্স এবং ভারত স্কাউট অ্যান্ড গাইডসের তরফে সারা বছর রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা অনিলকুমার সাহা বলেন,কয়েকদিন আগেও অল্প বিস্তর শিবির করা গিয়েছে। কিন্তু ভোট ঘোষণা হতেই শিবির কার্যত বন্ধ। রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা শিবিরে অংশ নিতে পারছেন না নির্বাচনি বিধিনিষেধের ফলে। রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও নির্বাচনের প্রচারে ব্যস্ত। ফলে ব্যাপক টান পড়েছে রক্তের জোগানে।
মালদহ ডিস্ট্রিক্ট ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সক্রিয় সদস্য উত্তমকুমার ঝা বলেন, ভোট ঘোষণার পরে জেলায় রক্তদান শিবিরের সংখ্যা প্রায় তলানিতে নেমেছে। এই অবস্থায় আমরা অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে যতটা সম্ভব রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছি।
রক্তের এই আকালে কার্যত পর্যুদস্ত রোগীদের আত্মীয়রাও। ‘ও’ নেগেটিভ তো বটেই, ‘এ’ পজিটিভ সহ অন্যান্য গ্রুপের রক্ত জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানালেন আকাশ মুর্মু কিংবা সোমনাথ পালের আত্মীয়রা। ওই দু’জনেরই জরুরি রক্তের প্রয়োজন ছিল।
মালদহ মেডিকেলের অধ্যক্ষ ডা: পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় বলেন, রক্তের সংকট যে ভোট ঘোষণার পরে আরও বেড়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আদর্শ আচরণবিধি মেনে রাজনৈতিক দলগুলি শিবির আয়োজন করতে উদ্যোগী হতে পারছে না। এখন ভরসা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আমরা মেডিকেলের পক্ষ থেকে এই সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের আবেদন জানাব যথাসম্ভব শিবির করতে। আপ্রাণ চেষ্টা করছি ভোটের মরশুমে জেলার রক্ত সংকট কিছুটা হলেও কমাতে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ