নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানে রক্ত পাচারের সিন্ডিকেট বহুদিন ধরেই সক্রিয়। মোট টাকা ফেললেই মিলে যায় রক্ত। গ্রুপ অনুযায়ী আলাদা রেট রয়েছে। দাতারা মহৎ উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। কিন্তু তাঁদের দেওয়া সেই রক্ত চড়া দামে বিক্রি করে ফায়দা তুলছে একটি চক্র। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রে ১৫ থেকে ২০জন জড়িয়ে রয়েছে। তাদের সঙ্গে এক শ্রেণির নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের যোগ রয়েছে। দুর্ঘটনায় জখম কোনো রোগী নার্সিংহোমে ভর্তি হলেই পরিবারকে আচমকা রক্ত জোগাড় করতে বলা হয়। বাইরে থেকে আসা রোগীর পরিবারের সদস্যরা সব সময় তা জোগাড় করতে পারেন না। তাদের কাছে ঠিক সময়ে হাজির হয়ে যায় দালালরা। তারা রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা টাকা দাবি করে। অসহায় রোগীর পরিবারের লোকজন তাদের দাবি মতো টাকা দিতে বাধ্য হয়।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত তারা সব থেকে চড়া দামে বিক্রি করে। এই গ্রুপের ডোনার সব সময় পাওয়া যায় না। সেই সুযোগ তারা কাজে লাগায়। এক বোতল নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত তারা ৩০০০-৩৫০০ টাকায় বিক্রি করে। কখনো কখনো দাম আরও বেড়ে যায়। পজেটিভ গ্রুপের রক্ত ২৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।
আধিকারিকদের অনুমান, দালালদের কাছে এই রক্ত বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকে আসছে। কলকাতার তিনটি ব্লাড ব্যাংক থেকে তা বেশি আসে। বর্ধমানের কোনো বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকেও রক্ত পাচার করা হচ্ছে কি না, তা জানতে স্বাস্থ্যদপ্তর তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার শহরের একটি ব্লাড ব্যাংকের নথি তাঁরা খতিয়ে দেখেছেন। প্রয়োজনে আবার ওই বেসরকারি হাসপাতালে আধিকারিকরা যাবেন। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকেও রক্ত বাইরে পাচার হচ্ছে কি না, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তৃণমূলের আমলে এই চক্র সব থেকে বেশি সক্রিয় হয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার জোগাড় হয়েছিল। পরিকাঠামো ছাড়াই পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন জায়গায় নার্সিংহোম তৈরি হয়েছে। সেখানে চিকিৎসার নূন্যতম পরিকাঠামো নেই। ওই নার্সিংহোম মালিকদের সঙ্গে দালালদের সম্পর্ক রয়েছে। সেখানে রক্ত বিক্রি থেকে সমস্ত রকমের অবৈধ কাজ হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত যারা রক্ত পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা।
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, যারা এই সমস্ত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। গরিব মানুষদের সঙ্গে যারা প্রতারণা করছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া দরকার। এক আধিকারিক বলেন, রক্ত পাচার বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রক্তদাতারা প্রশাসনের উপর ভরসা রাখতে পারেন।