নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর : ভাঙাচোরা রাস্তার করুণ দশা। দীর্ঘদিন অভিযোগ করেও লাভ না হওয়ায় রবিবার মেদিনীপুর শহরের নগারচক এলাকায় অবরোধে নামেন স্থানীয়রা। তবে বিক্ষোভ চলাকালীন ভুল স্বীকার করে অবরোধকারীদের সঙ্গে রাস্তায় বসেন পুরপ্রধান ও কাউন্সিলাররা। পুরপ্রধানের রাস্তা সংস্কারের আশ্বাসে শেষমেশ অবরোধ ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, নগারচক থেকে হোসনাবাদ যাওয়ার রাস্তার অবস্থা পুরোপুরি বেহাল। মাঝে মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সমস্যা থাকলেও পুরসভা পদক্ষেপ করেনি। অভিযোগ, দুই ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের সমঝোতার অভাবে এই রাস্তার সংস্কার দীর্ঘদিন থমকে রয়েছে। এদিন মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, রাস্তার সমস্যা রয়েছে। আমাদের কাউন্সিলাররা করতে পারেননি। এটা স্বীকার করতে অসুবিধা নেই। তবে ওই এলাকায় রাস্তার কাজ দ্রুত হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নগারচক থেকে হোসনাবাদ অর্থাৎ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে উঠতে এই রাস্তা ব্যবহার করেন পথচারীরা। প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা এই রাস্তা দিয়ে সারাদিনে অসংখ্য গাড়ি, টোটো, বাইক, সাইকেল যাতায়াত করে। মেদিনীপুর শহরের মীরবাজার, বড়বাজার, মানিকপুরের স্থানীয় মানুষজন এই রাস্তা ব্যবহার করেন। তবে অভিযোগ, আম্রুত প্রকল্পের কাজের ফলে রাস্তায় পাইপ লাইন বসেছে। কিন্তু বেশকিছু এলাকায় পাইপ লাইনের কাজ এখনও শেষ হয়নি। ফলে রাস্তার অবস্থা বেহাল।
এছাড়া রাস্তার একপাশে থাকা ১৬ নম্বর ও অপরপাশের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের মধ্যে সমঝোতার অভাবও রয়েছে। কারণ, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সিপিএমের। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, ১০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে তৃণমূল ভোট কম পাওয়ায় ইচ্ছেকৃত ভাবে এই রাস্তার কাজ করা হয়নি। এদিন বিক্ষোভ চলাকালীন রাস্তায় বসে পড়েন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুষময় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়ি পাইপ লাইনের কাজ শেষ হবে। মিটবে রাস্তার সমস্যা। এদিকে, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সৃজিতা দে বক্সী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সমস্যার কথা জানিয়েও লাভ হয়নি। আজ হঠাৎ সংস্কারের উদ্যোগ তড়িঘড়ি নেওয়া হল। আগে কেন এই কাজ হল না! নগারচক এলাকায় অবরোধ।-নিজস্ব চিত্র