সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রবিবার সকালে ফরাক্কায় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান। ফরাক্কা ব্লকে এতদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় রোগীদের জেলা সদর বহরমপুরে ও মালদহে ছুটতে হতো। এলাকাবাসীকে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই ৩০ বেডের হাসপাতালটি চালু করা হল। এরজন্য ফরাক্কা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ২ কোটি ৭ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করেছে। এই হাসপাতালটিতে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। শীঘ্রই সমস্ত রকম পরিষেবা চালু হবে বলে স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন এলাকাবাসীকে আর বহরমপুরে বা মালদহে ছুটতে হবে না। এখানেই মিলবে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা। খলিলুর বলেন, আগামীতে এই হাসপাতালে সাংসদ তহবিল থেকে আমি ৫০ লক্ষ টাকা দেব। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তারিফ হোসেন, ফরাক্কা এনটিপি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এইচওএইচআর অলোক কুমার রণবীর সহ বিশিষ্টজনেরা।
জানা গিয়েছে, এদিন ফরাক্কার বল্লালপুরে কৃষক বাজার সংলগ্ন এই নবনির্মিত ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা পরিষেবার সূচনা হয়। বর্তমানে ওপিডি পরিষেবা দিয়েই হাসপাতালটি চালু করা হল। আগামী এক মাসের মধ্যেই হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা চালু হবে বলে স্বাস্থ্যকর্তারা জানিয়েছেন। ফরাক্কার বেনিয়াগ্রামে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু সেটি চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মী ও পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে। সেখান থেকে জ্বর, সর্দি ও ভ্যাকসিন ছাড়া তেমন কোনও পরিষেবা মেলে না বলে এলাকাবাসীর দাবি। কোনও জটিল অসুখ বিসুখ বা রাতবিরেতে জরুরি পরিষেবার জন্য ভুক্তভোগীদের প্রায় ৬০ কিমি দূরে জঙ্গিপুরে বা আরও দূরে বহরমপুরে বা মালদহে যেতে হতো। বর্তমানে এখানেই মিলবে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা।
হাসপাতালটি চালু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা জামাল শেখ, রবি দাস, রেবিনা বিবি ও মাতলি দাস বলেন, আমাদের অনেক দূর যেতে হতো, তাতে সময় ও খরচ দু’টোই ব্যয় হতো। বিশেষ করে রাতে গর্ভবতী মায়েদের খুব সমস্যা হতো।
এনটিপিসির এইচওএইচআর বলেন, আমরা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে থাকি। পাশাপাশি এলাকাবাসীকে ভালো চিকিৎসা পরিষেবা দিতেই এই হাসপাতালের জন্য অনুদান দিয়েছি।