সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: জঙ্গিপুর মহকুমা ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল সহ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গ্লাভস সহ ন্যূনতম প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সামগ্রী মিলছে না। বিগত কয়েক বছর ধরেই হাসপাতালে মিলছে না চিকিৎসকদের ব্যবহৃত গ্লাভস, সেলাইয়ের ছুঁচ ও সুতো। প্রয়োজন পড়লে তা রোগীর পরিজনদের বাইরে থেকে কিনতে বলা হচ্ছে। বিপদে পড়ে সেই সব প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে তাঁরা বাধ্য হচ্ছেন। তেঘড়ি হাসপাতালে গ্লাভসের অভাবে এক শিশুর চিকিৎসা দীর্ঘক্ষণ শুরু করা হয়নি। যা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিজনরা। গ্লাভস অপর্যাপ্ত থাকার বিষয়টি স্বাস্থ্য কর্তাদেরই একাংশ স্বীকার করেছেন। যদিও জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার কাশীনাথ পাঁজা বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে গ্লাভসের অভাব নেই। হাসপাতালে পর্যাপ্ত গ্লাভস সরবরাহ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গিপুর মহকুমা ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মিলছে না সাধারণ গ্লাভস, সেলাইয়ের সুতো। গ্লাভস বাইরে থেকে রোগীর পরিজনদের কিনতে হচ্ছে। কোভিডকাল থেকেই এমনটা চলে আসছে বলে রোগী তাঁদের পরিজনদের অভিযোগ। রোগীর সাধারণ কাজের জন্য চিকিৎসকরা হাতে যে গ্লাভস ব্যবহার করেন, তা হাসপাতাল থেকেই সরবরাহ করার কথা। কিন্তু, সেটিও কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদেরই একাংশ রোগীর পরিজনদের এই গ্লাভস কিনতে বলছে। বিপদে পড়ে রোগীর পরিজনরা গ্লাভস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের তেঘড়ি হাসপাতালে গত প্রায় তিনমাস ধরে গ্লাভস সরবরাহ নেই বলে অভিযোগ। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি শিশু চিকিৎসার জন্য আসে। শিশুটির কপালে ক্ষত থাকায় ড্রেসিং করা প্রয়োজন ছিল। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিবারের সদস্যদের গ্লাভস কিনে আনতে বলেন। গ্লাভসের অভাবে শিশুটির আধঘণ্টা চিকিৎসা শুরু হয়নি। তা নিয়ে পরিবারের সমস্যারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শিশুর বাবা ইয়ামিন শেখ বলেন, হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যেই গ্লাভস দেওয়ার কথা। কিন্তু, তারা দিচ্ছে না। আমাদের বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। তার জন্য সন্তানের চিকিৎসাও শুরু হয়নি। বিএমওএইচ প্রিয়ব্রত সরকার বলেন, আমি সদ্য দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। গ্লাভসের সাপ্লাই নেই। বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই সমস্যা মিটে যাবে।
রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লকের মালডোভা ব্লক হাসপাতালে গত তিনদিন থেকে গ্লাভস নেই। বাধ্য হয়ে রোগীরা বাইরে থেকে তা কিনছেন। ব্লকের ভারপ্রাপ্ত বিএমওএইচ পুরঞ্জিত ঘোষাল বলেন, বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরকে জানিয়েছি। যতদূর জানি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে গ্লাভস এসেছে। সেখান থেকে এলেই কোনও সমস্যা হবে না।