নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জাতীয় সড়কের উচ্চতা প্রায় ১৪ ফুট। যা নদী বাঁধের রূপ নিয়েছে। এরজেরে আগামী বর্ষার মরশুমে ‘ওয়াটার লগিং’ জেরবার হতে পারে মাটিগাড়া ব্লকের একাংশ। এমন আশঙ্কা করে নিকাশি ব্যবস্থা চাঙ্গা করতে ‘মাস্টার প্ল্যান’ চাইছে মাটিগাড়া ব্লক। ইতিমধ্যে ব্লক প্রশাসন এ ব্যাপারে জাতীয় সড়ক কর্তপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু, তাদেরকে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্লক প্রশাসন রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তারা এ বিষয়ে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(এসজেডিএ) দ্বারস্থ হবে বলে জানা গিয়েছে।
এসজেডিএ’র চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার অর্চনা পন্ধরীনাথ ওয়াংখেড়ে বলেন, জাতীয় সড়ক তৈরির কাজ চলছে। এই অবস্থায় বর্ষার মরশুমে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিকাশির সমস্যা হতে পারে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বহুদিন আগে শিলিগুড়িতে ৩১নম্বর জাতীয় সড়কের নাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে ১০নম্বর জাতীয় সড়ক। সংশ্লিষ্ট রাস্তার বালাসন সেতু থেকে শালুগাড়া পর্যন্ত অংশ সম্প্রসারণের কাজও জোরকদমে চলছে। ইতিমধ্যে খাপড়াইল মোড় থেকে মাল্লাগুড়ি পর্যন্ত অংশ ব্যাপক উঁচু করা হয়েছে। ভূ-পূষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা প্রায় ১৪ফুট। রাস্তাটির এক পাশে রেললাইন। আরএক পাশের নিচু এলাকায় পরিবহণ নগর, খাপরাইল, পালপাড়া প্রভৃতি গ্রাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রামে বাড়ি, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অফিস, ছাপাখানা প্রভৃতি রয়েছে। আগামী বর্ষায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা এবং সরকারি ও বেরসকারি সংস্থার কর্মীরা জলজমার আশঙ্কায় ভুগছেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য, এলাকাগুলি থেকে রাস্তার উচ্চতা অনেকটা। রাস্তাটি কার্যত নদী বাঁধের রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে রাস্তাটি তৈরির জন্য নিকাশি-নালা, নয়নজুলি বুজিয়ে ফেলা হয়েছে। গ্রামগুলি থেকে বৃষ্টির জল বালাসন ও চামটা নদীতে ফেলার কোনও পরিকাঠামো তৈরি করা হয়নি। নদীগুলির নাব্যতাও কমেছে। তাই বর্ষার মরশুমে ওয়াটার লগিংয়ের জেরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে বলে আশঙ্কা। পাশাপাশি, চামটা নদীর জলও উপচে পরিবহণ নগরে প্রবেশ করতে পারে। কাজেই, বিষয়টি নিয়ে এখনই প্রশাসনের ভাবা উচিত।
মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি সুশান্ত ঘোষ বলেন, মেডিক্যাল থেকে পরিবহণ নগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা চাঙা করতে মাস্টার প্ল্যানের প্রয়োজন। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের সময়ই এ ব্যাপারে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তার সাইড প্ল্যান ও নকশা চাওয়া হয়েছিল। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা না করায় মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এসজেডিও এবং শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের দ্বারস্থ হব। কারণ, এখনই নিকাশি-নালার তৈরির কাজ শুরু করতে না পারলে বর্ষায় মারাত্মক সমস্যা হবে।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাস্তার জল পাস করার জন্য তারা নালা তৈরি করছে। গ্রামের নিকাশি ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে তাদের কোনও কিছু করার নেই।