সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: মঙ্গলবার রয়েছে অমাবস্যা। এদিকে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে গভীর নিম্নচাপ। জোড়া ফলায় নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে, জেলা অফিস থেকে ব্লকগুলিতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সতর্কবার্তা পৌঁছতেই শুরু হল তোড়জোড়। সোমবার থেকেই সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলের ব্লকগুলিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীকে দুর্যোগের বিষয়ে সতর্ক করতে ব্লক ও পুলিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং চলছে। এছাড়াও মহকুমার পাশাপাশি ব্লক অফিসগুলিতেও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। মূলত গঙ্গাসাগর ও বকখালির সমুদ্র সৈকতে সিভিল ডিফেন্স ও পুলিসকর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এই এলাকায় বাইরে থেকে আসা পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের সমুদ্রে বেশি দূর পর্যন্ত নামতে দেওয়া হচ্ছে না।
সেচদপ্তরকে সুন্দরবনের বেহাল নদীবাঁধগুলির দিকে বিশেষভাবে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্লকগুলিতে পানীয় জল, শুকনো খাবার ও ত্রিপল মজুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীদের ২৮ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। এদিন দুপুরে সাগর ব্লক অফিসে সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার উপস্থিতিতে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে। সব দপ্তরের আধিকারিক ও গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের সজাগ থাকার কথা বলা হয়েছে। সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের নামতে নিষেধ করা হয়েছে। যদি জলোচ্ছ্বাস হয়, তাহলে স্থানীয়দের ফ্লাড শেল্টার গুলিতে তুলে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’