Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পথ দুর্ঘটনায় ভেঙেছে শিরদাঁড়া, পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত বেল্ট বাঁধা টোটোয় ঘুরে ফর্ম দেওয়া-নেওয়া করছেন বিএলও

পথ দুর্ঘটনায় শিরদাঁড়ায় মারাত্মক আঘাত লেগেছিল। বিছানায় ছিলেন বহুদিন। সুস্থ হওয়ার আগেই বিএলও’র দায়িত্ব পেয়েছেন।

পথ দুর্ঘটনায় ভেঙেছে শিরদাঁড়া, পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত বেল্ট বাঁধা টোটোয় ঘুরে ফর্ম দেওয়া-নেওয়া করছেন বিএলও
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পথ দুর্ঘটনায় শিরদাঁড়ায় মারাত্মক আঘাত লেগেছিল। বিছানায় ছিলেন বহুদিন। সুস্থ হওয়ার আগেই বিএলও’র দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে অসুস্থতা সত্ত্বেও কর্তব্য থেকে পিছিয়ে আসেননি। পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত বেল্ট বাঁধা। স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে সমস্যা বলে সম্বল ক্রাচ। এই অবস্থায় এসআইআর’য়ের কাজ করছেন ক্যানিং পশ্চিমের পার্শ্বশিক্ষক সিন্টু রাউত। তিনি হেরোভাঙা কাছারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ২৩৮ নম্বর বুথের বিএলও। টোটো ভাড়া করে শারীরিক কষ্ট সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ফর্ম দেওয়া নেওয়ার কাজ করছেন। ভোটারদের প্রতি তাঁর দায়িত্ব রয়েছে তা থেকে সরে আসতে নারাজ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, বিএলও’দের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ইনিউমারেশন ফর্ম দেওয়া-নেওয়া করতে হবে। ফলে সিন্টু রাউত শারীরিক সমস্যা উপেক্ষা করে রোজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন।

Advertisement

জানা গিয়েছে, এসআইআর ঘোষণার মাসখানেক আগে রাস্তায় একটি বাইক তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিল। গুরুতর জখম হয়েছিলেন সিন্টুবাবু। তাঁর শিরদাঁড়া ভেঙে গিয়েছিল। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাড়ি ফেরার পর বিছানায় শুয়ে থাকতেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন নির্দেশিকা জারি করে। সিন্টুবাবু শারীরিকভাবে তখনও সুস্থ হননি। চিকিৎসার সময় পরিবার ব্যস্ত থাকায় এই কাজ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার আবেদন করা যায়নি। তারপর মনের জোর সম্বল করে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, শিরদাঁড়ার হাড় এখনও পুরোটা জোড়েনি। বেশি হাঁটাচলা করতে নিষেধ করেছেন ডাক্তাররা। তাই টোটোতে করে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের বাড়ি যাচ্ছি। আমার পার্টে প্রায় এক হাজার ১০০ ভোটার। ইতিমধ্যেই প্রায় সবার কাছে ফর্ম দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এখন সেগুলি সংগ্রহ করা চলছে। যাঁদের ফর্ম পূরণ করতে সমস্যা হচ্ছে তাঁদের টোটোতে বসেই দেখিয়ে দিচ্ছি। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে অসুবিধে হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু কাজ শেষ করা দরকার। তাই সব যন্ত্রণা সহ্য করে এসব করতে হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ